বাবা-মা সবসময় সন্তানদের মঙ্গল কামনা করেন। তারা তাদের জীবনদর্শন, ভালো-মন্দের বোধ শেখাতে চেষ্টা করেন এবং নিজেদের আচরণ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেন। তবে কখনও কখনও অজানতেই তারা এমন কিছু আচরণ করেন যা সন্তানের মানসিকতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এর ফলে সন্তান একগুঁয়ে, জেদি বা নিজের ইচ্ছামতো আচরণ করতে শুরু করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৩ থেকে ৭ বছর বয়সের শিশুদের মধ্যে জেদ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এই সময় সঠিকভাবে শিশু লালন-পালন না করলে ভবিষ্যতে সমস্যা তৈরি হয়।
নিচে কিছু সাধারণ ভুল আচরণ উল্লেখ করা হলো, যা সন্তানকে জেদি ও একগুঁয়ে বানাতে পারে:
১. অকারণে রাগ দেখানো
সন্তানকে কোনো কারণ ছাড়াই রেগে দেখা বা বাবা-মায়ের অযথা রাগারাগি শিশুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে সন্তান তার অনুভূতি বা চিন্তা প্রকাশ করতে ভয় পায় এবং বাবা-মার সঙ্গে যোগাযোগ কমে যায়।
২. প্রতিটি ইচ্ছা পূরণ করা
সন্তানের সব ইচ্ছা মেনে নেওয়া সন্তানকে শেখায়, সে যা চাইবে তা সর্বদা পাবে। এতে সে ধীরে ধীরে একগুঁয়ে হয়ে ওঠে, অন্যের সমস্যার প্রতি অনীহা দেখায় এবং নিজের মনমতো কাজ করার চেষ্টা করে।
৩. সবার সামনে সমালোচনা করা
সন্তানের আত্মসম্মান রক্ষা করা খুব জরুরি। সবার সামনে নিন্দা করা বা অন্যের সঙ্গে তুলনা করা শিশুর মানসিকতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে সে আরও জেদি হয়ে ওঠে।
৪. ভুল উপেক্ষা করা
সন্তানের ভুল করলে উপেক্ষা করলে সে মনে করে, তার ভুলের কোনো পরিণতি হবে না। এটি শিশুর আচরণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বাবা-মার উচিত সন্তানের ভুল শনাক্ত করে ধৈর্য্য ধরে তা সংশোধন করা।
৫. মারধর করা
সন্তান ভুল করলে মারধর করা তার আত্মবিশ্বাসকে ক্ষুণ্ণ করে এবং শিশুকে একগুঁয়ে করে তোলে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, শিশুকে শান্ত ও সচেতনভাবে শেখানো উচিত কীভাবে সৌজন্যপূর্ণ আচরণ করা যায়। তাকে ধন্যবাদ জানানো, সৌজন্য প্রদর্শনের মতো নৈতিক শিক্ষা দেওয়া শিশুদের আচরণ শোধরাতে সহায়তা করে।
সারসংক্ষেপে, বাবা-মায়ের আচরণ ও প্রতিক্রিয়া শিশুর মানসিক বিকাশে গভীর প্রভাব ফেলে। সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি ও ধৈর্য্যপূর্ণ লালন-পালনের মাধ্যমে শিশুদের একগুঁয়ে বা জেদি হওয়ার প্রবণতা কমানো সম্ভব।

