ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় শীতের আমেজ শুরু হওয়ায় হাট বাজারসহ অলিগিলিতে শীত পিঠা বিক্রি জমে উঠতে শুরু করেছে। ওইসব পিঠার মধ্যে ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, পাটিশাপটা, তেল পিঠা রয়েছে। চিতই পিঠার সঙ্গে সরিষা ভর্তা, শুঁটকি ভর্তা, মরিচ ভর্তা ও ধনিয়াপাতা ভর্তা দেওয়া হয়। তাছাড়া ডিম দিয়েও বানানো হয় চিতই পিঠা। তবে ভোজনরসিকদের কাছে ভাপাও চিতই পিঠার চাহিদাই বেশি রয়েছে।
গত দুই সপ্তাহ ধরে চলছে পিঠা বিক্রি। বিকাল হলেই পিঠাপুলির দোকানগুলোতে বেচা-বিক্রির ধুম পড়ে যায়। চলে রাত ৮ টা পর্যন্ত। পিঠার দাম ও রয়েছে নাগালের মধ্যে। তাই স্বাদ নিতে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজন এখানে ছুটে আসছেন।
সরেজমিন পৌর শহরের বাজার, স্টেশন চত্বর, বড়বাজার, খড়মপুর গিয়ে দেখা যায় রাস্তার পাশে, ফুটপাতে চলছে বাহারি পিঠা তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিক্রেতারা। চাউলের গুড়া দিয়ে তৈরি করছেন সুস্বাদু ভাপা পিঠা, চিতইসহ অন্যান্য পিঠা। আর চুলা থেকে নামানোর সঙ্গে সঙ্গে চলে যাচ্ছে অপেক্ষমাণ ক্রেতার হাতে।
চিতই পিঠার সঙ্গে সরিষা ভর্তা, শুঁটকি ভর্তা, মরিচ ভর্তা ও ধনিয়াপাতা ভর্তা দেওয়া হয়। প্রতিটি দোকানেই ক্রেতার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবি, শ্রমিক, দিনমজুর, যানবাহন চালকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজন নিত্যদিন খাচ্ছেন ওইসব শীত পিঠা। এক একটা পিঠা ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা দোকানে বসে সেই পিঠা খাচ্ছেন। কেউবা বাসা বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন পরিবারের জন্য।
পৌর শহরের সড়ক বাজার এলাকায় পিঠা বিক্রেতা মো. হাসেন মিয়া বলেন,শীত পড়তে শুরু করায় গত কয়েক দিন ধরে শীত পিঠা বিক্রি করছি। চালের গুড়া দিয়ে চিতই পিঠা আর নারিকেল, গুড়, ধনিয়া পাতা দিয়ে ভাপা পিঠা তৈরী করে বিক্রি করছি। চিতই পিঠার সাথে সুটকি ও সরিষার বর্তা দেওয়া হয়। পিঠার মান ভালো হওয়ায় নানা শ্রেণী পেশার লোকজন এখানে পিঠা খেতে আসে। প্রতিটি পিঠা ১০ টাকা করে বিক্রি করছি। তিনি আরও বলেন এখনোও ভালো করে শীত পড়েনি এরপর পিঠার ভালো চাহিদা আছে। বিকাল থেকে রাত ৯টা পযর্ন্ত চলে পিঠা বিক্রি। দৈনিক ২ হাজার টাকার উপর পিঠা বিক্রি হয়। যাবতীয় খরচ বাদে ৭শ থেকে ৮ শ টাকা আয় হয় বলে জানান।
পিঠা খেতে আসা স্থানীয় ব্যবসায়ী মো: শামীম মিয়া বলেন, গত কয়েক দিন ধরে বিকাল বেলা থেকে শীত অনুভূত হচ্ছে। এরইমধ্যে ফুটপাটে শীতের পিঠা বিক্রি শুরু হয়েছে। তিনি বলেন আমার কাছে শীতের চিতই আর ভাপা পিঠা খেতে খুবই ভালো লাগে। বাজারে পিঠার সাথে নানা রকম যে ভর্তা করা হয় সেটি দিয়ে খেলে স্বাদই অন্য রকম পাওয়া যায়। আগে আমরা বিকালে অন্য কিছু খেতাম। কিন্তু এখন শীতের পিঠা বিক্রি শুরু করায় প্রতিদিন সন্ধ্যায় ভাপা আর পিঠা খাই।
স্কুল শিক্ষক মোছা: আকলিমা আক্তার বলেন, চাকুরির কারণে ইচ্ছে থাকা সত্বেও পিঠা তৈরী করে খেতে পারছি না। তাছাড়া ছেলে মেয়েরা পিঠা খুবই পছন্দ করে। শীত পড়তে শুরু করায় ফুটপাতে ভাপা, চিতইসহ নানা জাতের পিঠা বিক্রি শুরু হয়েছে। তাই ভাপা ও চিতই পিঠা ক্রয় করেছি। সাথে রকমারি বর্তা নিয়েছি। এখন বাসায় গিয়ে সবাই মিলে খাব। তিনি বলেন আসলে শীতের পিঠার স্বাদই হলো অন্য রকম।
মো: জামশেদ মিয়া বলেন, আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করছি। পরিবার গ্রামের বাড়িতে থাকে। এক মাস পর পর বাড়ি যাওয়া হয়। এখানে ইচ্ছে থাকা সত্বেও কোন প্রকার পিঠা খেতে পারছি না। রাস্তার পাঠে শীত পিঠা দেখায় খেয়েছি। খুবই ভালো লেগেছে।

