জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় প্রকাশিত হওয়ার পর শেখ হাসিনা এটিকে “পক্ষপাতদুষ্ট এবং রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে অভিহিত করেছেন, খবর দিয়েছে বিবিসি।
রায়ের পর প্রকাশিত পাঁচ পৃষ্ঠার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তার দল, আওয়ামী লীগকে নষ্ট করার লক্ষ্য নিয়ে এই মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। তিনি আগেও ভারতের নির্বাসনে এই বিচারকে ‘প্রহসন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, “আমি একটি যথাযথ ট্রাইব্যুনালে মুখোমুখি হতে ভয় পাই না, যেখানে প্রমাণগুলো ন্যায্যভাবে যাচাই করা হবে।” তিনি তার সরকারের মানবাধিকার ও উন্নয়নমূলক কাজের প্রতি গর্ব প্রকাশ করেন।
সোমবার পৌনে তিনটার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর তিন সদস্যের বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের নেতৃত্ব দেন বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার; অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। প্রথম অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং দ্বিতীয় অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়ের সংক্ষিপ্ত অংশ ছয় ভাগে ভাগ করে পড়া হয়েছে, যা দুপুর ১২টা ৩৪ মিনিটে শুরু হয়ে পৌনে তিনটায় শেষ হয়।

