জামায়াতে ইসলামীসহ ১১টি দলের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতাকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ সংকটে পড়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত ১১ দিনে দলটির অন্তত ১৬ জন প্রভাবশালী নেতা পদত্যাগ করেছেন। তবে এনসিপি নেতৃত্ব এখনও পদত্যাগপত্রগুলো গ্রহণ করেনি; বরং পদত্যাগীদের বুঝিয়ে দলে ফেরানোর জোর তৎপরতা শুরু করেছে তারা।
গত ২৮ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী মোর্চায় যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় এনসিপি। এর আগে থেকেই দলের ভেতর এ নিয়ে তীব্র বিরোধিতা শুরু হয়। গত ২৭ ডিসেম্বর এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে ৩০ জন নেতা একটি স্মারকলিপি দিয়ে জামায়াতের সঙ্গে জোট না করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
দলের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে প্রথম পদত্যাগ করেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা। তিনি বর্তমানে ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন, যদিও প্রাথমিক বাছাইয়ে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় তিনি আপিল করেছেন। এরপর ধারাবাহিকভাবে পদত্যাগ করেন তার স্বামী ও দলের যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ এবং চট্টগ্রাম মহানগরের প্রধান সমন্বয়কারী মীর আরশাদুল হক। মীর আরশাদুল হক পদত্যাগের সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন।
পদত্যাগকারীদের তালিকায় রয়েছেন: তাজনূভা জাবীন (যুগ্ম আহ্বায়ক), মুশফিক উস সালেহীন (মিডিয়া সেল সম্পাদক), ফরহাদ আলম ভূঁইয়া (আইসিটি সেল প্রধান), আরিফ সোহেল (যুগ্ম সদস্যসচিব), আজাদ খান ভাসানী (মওলানা ভাসানীর নাতি ও উত্তরাঞ্চলের সংগঠক), এছাড়াও রয়েছেন ওয়াহিদুজ্জামান, দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী, সৈয়দা নীলিমা দোলাসহ আরও বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক নেতা।
জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার কারণে দলটির নারী নেত্রীদের মধ্যেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এনসিপির মনোনীত প্রার্থী হয়েও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন মনিরা শারমিন ও মনজিলা ঝুমা।
দলের শীর্ষ নেতারা স্বীকার করেছেন, এই গণ-পদত্যাগে তারা বিব্রত এবং এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপের মধ্যে আছেন। বিশেষ করে ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’-এর শরিকদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা-১৮ আসনের প্রার্থী আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, “যাঁরা পদত্যাগ করেছেন, তাঁদের সঙ্গে আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে কথা বলার চেষ্টা করছি। আমরা আশা করছি, তাঁদের অনেকেই ভুল বোঝাবুঝি কাটিয়ে দলে ফিরবেন।”
তবে এই প্রক্রিয়াটি সহজ হচ্ছে না। গত শুক্রবার পদত্যাগীদের সঙ্গে একটি বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। পদত্যাগকারী এক নেতার অভিযোগ, দলের ভেতরেই একটি অংশ চাচ্ছে জামায়াতবিরোধীরা যেন আর ফিরতে না পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে আলোচনার পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

