ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় পারিবারিক কলহ ও প্রেম সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে পৃথক স্থান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দুটি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতরা হলো পৌর শহরের মসজিদ পাড়ার জাহের মিয়ার ভাড়াটিয়া মো: লুৎফুর মিয়ার ছেলে মো: ইয়াসিন মিয়া (১৭) ও ধরখার ইউনিয়নের ছতুরা শরীফ গ্রামের প্রবাসী জাহেদ মিয়ার স্ত্রী নাহিদা আক্তার(১৯)। সোমবার দুপুরে পৌর শহরের মসজিদ পাড়া এলাকা থেকে কিশোর ইয়াসিন ও রানীখার গ্রাম থেকে গৃহবধু নাহিদা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ দিন ধরে ইয়াসিন এক মেয়ের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। ওই মেয়ে নানা ভাবে তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। এতে সে মানসিক যন্ত্রণায় ভোগছিল।
পৌর শহরের মসজিদ পাড়ার নিহত ইয়াসিনের মা হেনা বেগম বলেন, এক মেয়ের সাথে ইয়াসিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ওই মেয়ে আমার ছেলের কাছে বিয়ের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা কাবিন চেয়েছিল। আমার ছেলে বেকার সে এত টাকা কোথা দিবে। এসব কারণে সে মানসিক যন্ত্রণায় ছিল। গতরাতে সে আলাদা ঘরে ছিল। গভীর রাত পর্যন্ত তাকে ফোনে কথা বলতে দেখেছি। মেয়ে তাকে কি বলেছে জানি না। সকালে তার রুমে গিয়ে দেখি ফ্যানের সাথে গলায় ওড়না প্যাচানো অবস্থায় সে ঝুলছে।
এদিকে পারিবারিক কলহে নাহিদা আক্তার গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। নিহত নাহিদা আক্তার ধরখার ইউনিয়নের রানীখার গ্রামের শরিফুল ইসলামের কন্যা। তার বাবার বাড়িতে এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। নাহিদার স্বামী জাহেদ দীর্ঘ দিন ধরে প্রবাসে থাকেন। পরিবারের উপর অভিমান করে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে নাহিদা।
আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ছমিউদ্দিন বলেন, পৃথক স্থানে দুজন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়ে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন কিশোর ছেলেটি প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে প্রেম সংক্রান্ত বিষয়ে মনোমালিন্য থেকে এ আত্মহত্যা করেছে। নিহতদের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

