বাংলাদেশে গত সপ্তাহের শক্তিশালী ভূমিকম্পের রেশ কাটতে না কাটতেই প্রতিবেশী মিয়ানমার ও ইন্দোনেশিয়ায় আঘাত হানা নতুন কম্পন এই অঞ্চলে ভূমিকম্পের ঝুঁকি ও আতঙ্ককে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ভূমিকম্প মনিটরিং ওয়েবসাইট আর্থকোয়াকট্র্যাকার ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ভূমিকম্পের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। রবিবার দুপুরের আপডেট অনুসারে:
গত একদিনে: বিশ্বজুড়ে মোট ৯১টি কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে।
গত ৭ দিনে: এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৫২-এ।
বিশেষজ্ঞরা এমন ঘন ঘন ভূকম্পনকে ‘ভালো লক্ষণ নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন।
গত শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বাংলাদেশে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে, যাতে অন্তত ১০ জন প্রাণ হারান এবং অনেকে আহত হন। ভূমিকম্প গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবায়েত কবির নিশ্চিত করেছেন, শনিবার দেশে আরও তিনবার যে মৃদু কম্পন অনুভূত হয়, তা ছিল মূলত ওই বড় ভূমিকম্পের ‘আফটারশক’।
শনিবারের কম্পনগুলোর মধ্যে ছিল:
সকাল ১০:৩৮: নরসিংদীর পলাশে ৩.৩ মাত্রার কম্পন।
সন্ধ্যা ০৬:০৬: এক সেকেন্ডের ব্যবধানে বাড্ডা ও নরসিংদীতে যথাক্রমে ৩.৭ ও ৪.৩ মাত্রার কম্পন।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জবি কর্তৃপক্ষ রবিবার জরুরি সভায় ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিতসহ একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে:
বন্ধ ঘোষণা: ২৫ নভেম্বর থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত সব ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ।
অনলাইন শিক্ষা: ৩০ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে ক্লাস নেওয়া হবে।
হল খালি: ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হলের ছাত্রীদের সোমবার (২৪ নভেম্বর) সকাল ১০টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ।
পরিবহন ব্যবস্থা: শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে সোমবার সকাল থেকে বিভাগীয় শহরের উদ্দেশে বাস ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞ কমিটি: ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি যাচাইয়ে বুয়েটের বিশেষজ্ঞসহ লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের ডীনের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে রিপোর্ট দেবে।
রবিবার সকালে মিয়ানমার এবং ইন্দোনেশিয়াতেও শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়:
মিয়ানমার: স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৩৯ মিনিটে আন্দামান সাগরে ৫.৩ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়, যা থাইল্যান্ডেও অনুভূত হয়। উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিমি গভীরে।
ইন্দোনেশিয়া: দেশটির উত্তর মালুকু প্রদেশে ৫.২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে।
এখন পর্যন্ত মিয়ানমার বা ইন্দোনেশিয়ায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক দুর্যোগের পরে আঞ্চলিক পর্যায়ে ভূমিকম্পের এই ধারা মানুষের উদ্বেগ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

