ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
এক পাশে লেখা আছে আপনার অপ্রয়োজনীয় জিনিস এখানে রেখে যান, অপরপাশে লেখা আছে আপনার প্রয়োজনীয় জিনিস এখান থেকে নিয়ে যান। বাসা বাড়িতে থাকা পুরনো অপ্রয়োজনীয় জামা কাপড় অনেকে সেচ্চায় রেখে যাচ্ছে। এসব পোশাক মনের আনন্দে নিয়ে যাচ্ছেন পথচারীসহ অসহায় হতদরিদ্র লোকজন। এমন দৃশ্য চোখে পড়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর শহরের দেবগ্রাম এলাকায়।
দেবগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো: সেকের মিয়ার উদ্যোগে বিদ্যালয়ের পাশে ব্যতিক্রমী এক মানবতার দেয়াল স্থাপন করেন। আত্মমানবতার সেবায় এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ রোববার থেকে শুরু হয়। বাড়ি ঘরে থাকা অপ্রয়োজনীয় বস্ত্র দিয়ে অসহায় হতদরিদ্র ও ছিন্নমুল মানুষের উপকার করতে পেরে অনেকেই খুশি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশ কয়েক দিন ধরে হিমেল হাওয়া ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতে জনজীবন বিপযর্স্ত হয়ে পড়েছে। গত তিন দিন ধরে সুর্যের মুখ দেখা যায় নি। তীব্র শীতের কারণে সবচাইতে বেশী বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, ছিন্নমুল,অসহায় হতদরিদ্র খেটে খাওয়া লোকজনরা। মানবতার দিক বিবেচনা করে ঠিক এসময় মানবতার দেয়ার স্থান করা হয়। ওই দেয়ালে সেচ্চায় স্থানীয় লোকজন তাদের ঘরে থাকা অপ্রয়োজনীয় শীত বস্ত্রসহ অন্যান্য পোশাক রেখে যাচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আখাউড়া-কসবা সড়কের পৌর শহরের দেবগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দোয়ালে সাজানো রয়েছে শার্ট,প্যান্ট, জ্যাকেট, সুয়েটার, সেলোয়ার কামিজ, শিশুদের নানা রকমের শীত বস্ত্র। নিত্যব্যবহার্য ওইসব বস্ত্র ওইখানে সুন্দর ভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। যাদের প্রয়োজন সময় বুঝে তারা ওইসব বস্ত্র নিয়ে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে এ মানবতার দেয়াল বেশ সারা ফেলেছে।
মো: হুমায়ুন মিয়া বলেন, গত কয়েক দিন ধরে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় ছিন্নমুল অসহায় লোকজনরা অনেকটাই বিপাকে পড়েছে। বাড়ির পাশে মানবতার দেয়াল দেখতে পেয়ে ঘর থেকে কিছু শীত বস্ত্র এখানে দিয়েছি। যদি কোন মানুষের উপকার হয়। সবাই যদি যার যার অবস্থান থেকে ঘরে থাকা অপ্রয়োজনীয় শীত বস্ত্র ও কাপড় এখানে রেখে যায় তাহলে অনেকে অসহায় লোকদের উপকার হবে। জুবায়েদ হোসেন, সকালে এখানে মানবতার দেয়ালে কাপড় দেখতে পয়ে ঘর থেকে বেশ কয়েকটি শীত বস্ত্র রেখেছি। লোকজন না থাকলে অনেকে এখান থেকে শীতবস্ত্রসহ অন্যান্য কাপড় নিয়ে যাচ্ছে। এখানে বস্ত্র দিতে পেরে আমার কাছে ভালো লাগছে।
মো: গুলজার খাঁ বলেন, আমার কোন থাকার জায়গা নেই। সারা দিন ভিক্ষা করে রেলওয়ে স্টেশন কিংবা স্কুলের বারান্দায় থাকি। এই শীতে চলতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। ভিক্ষা করতে এসে দেখি এখানে অনেক কাপড় রাখা আছে। এরমধ্যে একটি শীত পোশাক নিয়েছি। আমেনা বেগম বলেন, অন্যের বাড়িতে থেকে কাজ করি। শীতের তেমন কিছু নেই। এখান থেকে একটি সুয়েটার নিয়েছি। এই শীতের মধ্যে এটা পড়ে কাজ করতে কোন অসুবিধে হবে না।
দেবগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো: সেকের মিয়া বলেন, সমাজের অসহায় লোকদের কথা চিন্তা করে মূলত এ মানবতার দেয়াল তৈরী করা হয়েছে। অনেকের বাড়িতে অপ্রয়োজনীয় ভালো ভালো কাপড়গুলো আমাদের ডাকে সারা দিয়ে এখানে রেখে যাচ্ছেন। যাদের প্রয়োজন তারা এখান থেকে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আরো বলেন অনেকে লোকলজ্জায় মানুষের সামনে থেকে নিতে চাচ্ছে না। মানুষজন না থাকলে চাহিদানুযায়ী নিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন ইতিমধ্যে মানবতার দেয়াল মানুষের মধ্যে বেশ সারা ফেলেছে। স্থানীয় লোকজন আবেগ আপ্লুত হয়ে সহযোগিতা করছেন। সত্যি এটি হলো একটি মহৎ কাজ। কারণ মানবতা হলো সবচাইতে বড় ধর্ম। সমাজের তৃণমুল পর্যায়ে মানবতার দেয়াল ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।

