আল্লাহ তায়ালা সব কিছুর স্রষ্টা। তিনিই সব কিছুর আদি এবং অন্ত। তাঁর আগে কিছু ছিল না, তাঁর পরেও কিছু থাকবে না।
পবিত্র কোরআনে তিনি নিজেই বলেন—
هُوَ الۡاَوَّلُ وَ الۡاٰخِرُ وَ الظَّاهِرُ وَ الۡبَاطِنُ ۚ وَ هُوَ بِكُلِّ شَیۡءٍ عَلِیۡمٌ
“তিনিই প্রথম ও শেষ, তিনিই প্রকাশ্য ও গোপন; আর তিনি সব বিষয়ে সম্যক অবগত।”
(সুরা হাদীদ, আয়াত: ৩)
অর্থাৎ, আল্লাহ তায়ালা আদি বা প্রথম—তাঁর পূর্বে কিছু ছিল না। তিনি অন্ত বা সর্বশেষ—তাঁর পরেও কিছু থাকবে না। তিনি প্রকাশ্য—অর্থাৎ, সর্বশক্তিমান ও বিজয়ী। তিনি গুপ্ত—অর্থাৎ, সকল অদৃশ্য ও গোপন বিষয় সম্পর্কে অবগত, যা মানুষের দৃষ্টি ও জ্ঞানের বাইরে।
আল্লাহ তায়ালার অসংখ্য গুণবাচক ও সুন্দর নাম রয়েছে। কোরআনে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, মানুষ যেন তাঁকে এই নামগুলো দিয়েই ডাকে। যেমন—
“আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তাঁরই রয়েছে সুন্দর সুন্দর নাম।”
(সুরা ত্বাহা, আয়াত: ৮)
অন্য আয়াতে এসেছে—
“আল্লাহর জন্য রয়েছে সুন্দর সুন্দর নাম। সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকবে। আর যারা তাঁর নাম বিকৃত করে, তাদের বর্জন করো। তারা যা করে, তার ফল শিগগিরই দেওয়া হবে।”
(সুরা আ’রাফ, আয়াত: ১৮০)
শুধু কোরআনেই নয়, হাদিসেও আল্লাহর নামগুলো মুখস্থ করার গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন—
“আল্লাহর ৯৯টি নাম আছে, যে তা গণনা (পাঠ বা মুখস্থ) করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।”
(বুখারি, হাদিস: ২৭৩৬)
অতএব, আল্লাহর গুণবাচক নামগুলো শিখে, তা দিয়ে তাঁকে ডাকা এবং জীবনে প্রতিফলিত করা প্রতিটি মুসলমানের দায়িত্ব। এতে যেমন দুনিয়ার জীবন সুন্দর হয়, তেমনি আখিরাতের জন্য জান্নাতের সুসংবাদও রয়েছে।

