ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আইনি বাধা কাটতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, ভোটার হিসেবে নিবন্ধন সম্পন্ন হলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে তার আর কোনো আইনি জটিলতা থাকবে না।
তারেক রহমানের ভোটার হওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ইসি পুরোপুরি প্রস্তুত। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশন সব ধরণের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। ভোটার হওয়ার পর প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে আমি আর কোনো বাধা দেখছি না।”
তারেক রহমানের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং নির্বাচন কমিশন ভবনের নিরাপত্তা (KPI) বিবেচনা করে নিবন্ধনের স্থান নির্ধারণ করা হবে। তিনি কি গুলশানের বাসায় নাকি নির্বাচন অফিসে ভোটার হবেন—সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় যেকোনো একটি পদ্ধতি বেছে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ইসি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে গত ১১ ডিসেম্বর। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী তফসিল ঘোষণার পর মাঠপর্যায়ে ভোটার হওয়ার সুযোগ সীমিত থাকলেও বিশেষ পরিস্থিতিতে এটি কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারেক রহমান ২৭ ডিসেম্বর ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করবেন।
নির্বাচনে অংশ নিতে হলে ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। ইতিমধ্যে বগুড়া-৬ আসন থেকে তারেক রহমানের নামে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রার্থী হওয়ার প্রাথমিক শর্ত হিসেবে দেশের যেকোনো নির্বাচনি এলাকার ভোটার হওয়া বাধ্যতামূলক।
২০০৮ সালের নির্বাচনের সময় তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তফসিল ঘোষণার পর বাসায় বসে ভোটার হয়েছিলেন। সেই নজির অনুসরণ করে তারেক রহমানও বাসায় থেকে ভোটার হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফিরে তারেক রহমান নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। বৃহস্পতিবার ঢাকার ৩০০ ফুট এলাকায় এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “আই হ্যাভ আ প্ল্যান (আমার একটি পরিকল্পনা আছে)।”
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দেশে ফেরা এবং ভোটার হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়াকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। এখন সবার নজর ২৯ ডিসেম্বরের মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময়ের দিকে।

