বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে দলটির শীর্ষ নেতৃত্বে সাংগঠনিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানই বর্তমানে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যান ঘোষণার প্রক্রিয়া ও নির্বাচনী প্রচারণায় ছবির ব্যবহার নিয়ে আইনি ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে তৎপরতা শুরু করেছে দলটি।
নেতৃত্ব ও আইনি জটিলতা গত ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলের ‘চেয়ারপারসন’ পদটি শূন্য হয়। যদিও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তারেক রহমান স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই দায়িত্বের অধিকারী, তবে এখনো দলগতভাবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। ১২ ফেব্রুয়ারি প্রস্তাবিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা–২০২৫’ অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী কেবল বর্তমান দলীয় প্রধানের ছবিই প্রচারণায় ব্যবহার করতে পারবেন। এই বিধির কারণে প্রার্থীরা এখন খালেদা জিয়ার ছবির পরিবর্তে কার ছবি ব্যবহার করবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় রয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের কাছে ব্যাখ্যা চাইবে বিএনপি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, নির্বাচনী পোস্টারে দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহারের বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পেতে তারা শিগগিরই নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে আলোচনা করবেন। বর্তমানে অনেক প্রার্থীর পোস্টার ও লিফলেটে খালেদা জিয়ার ছবি রয়েছে, যা আইনগতভাবে ব্যবহারের সুযোগ থাকবে কি না, তা নিয়ে কমিশন থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।
শোককে শক্তিতে রূপান্তরের কৌশল খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বর্তমানে বিএনপির সাত দিনের শোক কর্মসূচি চলছে, যা ৫ জানুয়ারি শেষ হবে। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, শোকের এই আবহ শেষ হওয়ার পরই পুরোদমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে। দলের নীতিনির্ধারকদের লক্ষ্য হলো, খালেদা জিয়ার প্রতি জনগণের যে আবেগ ও সহমর্মিতা তৈরি হয়েছে, তাকে সাংগঠনিক শক্তিতে রূপান্তর করা। শারীরিকভাবে অনুপস্থিত থাকলেও তার আদর্শকে কেন্দ্র করেই নির্বাচনী প্রচারণার মূল বার্তা সাজানো হচ্ছে।
অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও বিদ্রোহী প্রার্থী দমন নির্বাচনী প্রস্তুতির পাশাপাশি দলের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদ্রোহী প্রার্থী। শতাধিক আসনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে মনোনয়ন জমা দেওয়ায় ইতিমধ্যেই রুমিন ফারহানা, সাইফুল আলম নীরবসহ ৯ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাহার না করলে বহিষ্কারের তালিকা আরও দীর্ঘ হবে। তবে শৃঙ্খলা মেনে নিলে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের সুযোগও রাখা হয়েছে।
মাঠে নামবেন তারেক রহমান নির্বাচন পরিচালনা ও কৌশল নির্ধারণে ৪১ সদস্যের কেন্দ্রীয় স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। দলের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, প্রচারণার শেষ ধাপে তারেক রহমান সরাসরি মাঠে নামার পরিকল্পনা করছেন। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে তিনি দেশব্যাপী সফর এবং জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন।
বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের লক্ষ্য হলো, নির্বাচনের প্রতিটি ধাপে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অগ্রসর হওয়া যাতে ভোটারদের কাছে কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর বার্তা না পৌঁছায়।

