দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস জীবন কাটিয়ে আজ দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর সঙ্গে দেশে ফিরেছেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান। প্রিয় নেতাকে বরণ করে নিতে আজ বিমানবন্দর এলাকায় ঢল নামে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের।
গতকাল বুধবার দুপুরে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাঁর তিন দিনের বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এই কর্মসূচির কথা জানান।
আগামীকাল শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) তারেক রহমানের কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন। এদিন জুমার নামাজের পর তিনি তাঁর বাসভবন থেকে বের হবেন। তাঁর প্রথম গন্তব্য হবে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার। সেখানে তিনি ফাতেহা পাঠ ও জিয়ারত করবেন।
জিয়ারত শেষে তারেক রহমান সরাসরি সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাবেন। সেখানে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন এবং পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।
আগামী শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) তারেক রহমানের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ব্যক্তিগত ও সামাজিক কর্মসূচি রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়:
জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার তালিকা: এদিন তিনি জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ও ভোটার তালিকাভুক্তির প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করবেন। এজন্য তিনি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন অফিসে সশরীরে যাবেন কি না, তা পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।
শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত: ভোটার হওয়ার কাজ শেষ করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যাবেন। সেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করবেন।
পঙ্গু হাসপাতাল পরিদর্শন: এরপর তারেক রহমান রাজধানীর শ্যামলীতে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) যাবেন। সেখানে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেবেন এবং তাদের সঙ্গে সময় কাটাবেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, শনিবার আরও একটি কর্মসূচি থাকার কথা রয়েছে, যার বিস্তারিত সময় ও স্থান পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জনসমাগম সামাল দিতে দলের পক্ষ থেকে বিশেষ স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করা হয়েছে।

