মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের আমদানি শুল্ক আরোপকে কেন্দ্র করে একটি মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতে তীব্র প্রশ্নের মুখে পড়েছেন। এই মামলার রায় দেশটির অর্থনীতি ও ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক নীতি উভয়ের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
বিচারপতিদের একাংশ—যাদের মধ্যে অনেকেই রক্ষণশীল—প্রেসিডেন্টের যুক্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্পের অবস্থান হলো, যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন পুনরুদ্ধার এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে শুল্ক অপরিহার্য। তবে একাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং কয়েকটি অঙ্গরাজ্য এই পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে, তাদের দাবি, ট্রাম্প তার সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন এবং কার্যত করের সমতুল্য শুল্ক আরোপ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সাধারণত বড় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে কয়েক মাস সময় নেয়, কিন্তু এই মামলায় দ্রুত রায় দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা এটিকে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রেসিডেন্ট ক্ষমতার সম্প্রসারণের প্রথম বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন।
বিচারপতি অ্যামি কনি ব্যারেট—যিনি ট্রাম্পের দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত—প্রশ্ন করেছেন, “প্রতিটি দেশকেই কি প্রতিরক্ষা ও শিল্পের হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে শুল্ক আরোপ করা জরুরি? স্পেন বা ফ্রান্সের ক্ষেত্রে কেন একই নীতি প্রয়োজনীয়?”
মামলার ফলাফলে ট্রাম্প প্রশাসনের অধিগৃহীত অর্থের একটি বড় অংশ ফেরত দিতে হতে পারে। ব্যারেট মন্তব্য করেছেন, এটি “সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি” তৈরি করতে পারে। শুনানিতে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট, বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক এবং বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আদালত যদি তাদের পক্ষে রায় না দেয়, তবে তারা বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এই মামলাটি মূলত ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট (IEEPA)-এর ভিত্তিতে। ট্রাম্প ফেব্রুয়ারিতে প্রথমবার চীন, মেক্সিকো ও কানাডা থেকে আসা পণ্যের ওপর এই আইনের আওতায় শুল্ক আরোপ করেন, আর এপ্রিল মাসে প্রায় সব দেশের পণ্যের ওপর ১০–৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক নির্দেশ দেন। তাঁর যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি একটি “অসাধারণ এবং অস্বাভাবিক হুমকি” তৈরি করছে।
প্রশাসনের পক্ষের সলিসিটর জেনারেল জন সাউয়ার বলেন, শুল্ককে কর নয় বরং প্রেসিডেন্টকে প্রদত্ত নিয়ন্ত্রণমূলক ক্ষমতার “স্বাভাবিক সম্প্রসারণ” হিসেবে দেখা উচিত। তবে কিছু বিচারপতি যেমন সোনিয়া সোটোমেয়র, মন্তব্য করেছেন, “আপনি বলছেন শুল্ক কর নয়, কিন্তু বাস্তবে সেটিই তো কর।”
অঙ্গরাজ্য ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, আইইইপিএ-তে শুল্কের কথা উল্লেখ নেই এবং কংগ্রেস কখনো প্রেসিডেন্টকে এত বিস্তৃত ক্ষমতা দিতে চায়নি। তারা বলেন, প্রেসিডেন্টের এই পদক্ষেপ বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তি ও শুল্কনীতিকে এক ঝটকায় বাতিল করার সুযোগ দেয়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমানে প্রায় ৯০ বিলিয়ন ডলারের আমদানি শুল্ক মামলার প্রভাবের মধ্যে। ট্রাম্প প্রশাসনের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, যদি আদালত রায় দিতে দেরি করে, তবে শুল্কের পরিমাণ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
শুনানি চলাকালীন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সারাহ ওয়েলস বলেন, আদালত বুঝতে পারছে ট্রাম্প প্রশাসনের ক্ষমতার প্রয়োগ সীমা অতিক্রম করেছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে বিচারপতিরা প্রয়োজনীয় সীমা নির্ধারণের গুরুত্ব বোঝেন।

