ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
শীতের সকাল, কুয়াশাছন্ন চারদিক। শীতকে অপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা গায়ে স্কুলের পোশাক ছুটে চলেছেন বিদ্যালয়ে। তাদের চোখে-মুখে আনন্দের ছাপ লক্ষ করা যাচ্ছে। কারণ বছরের প্রথম দিন শিক্ষার্থীরা পেয়েছেন রং বেরঙ্গের মলাটের নতুন বই। আর ওইসব বই হাতে পেয়ে আনন্দে মেতে উঠলো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার প্রথমিক,মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার এ উপজেলায় প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কারিগরি, মাদরাসার শিক্ষার্থীদের হাতে সংশ্লিষ্টরা বিনা মূল্যে পাঠ্য বই তুলে দেন।
এদিকে বছরের প্রথম দিন নতুন বই হাতে পেয়ে বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে উঠে শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ে বিদ্যালয়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। কেবল শহরেই নয়, উৎসবের এ রং ছড়ায় গ্রামাঞ্চলেও। নতুন বই হাতে পেয়ে বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে উঠে শিক্ষার্থীরা। এ সময় নতুন বইয়ের মলাট উল্টিয়ে বইয়ের ঘ্রাণ নিতে দেখা যায় অনেক শিক্ষার্থীকে। এ উপজেলার ৫৪ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৭ টি মাদরাসাসহ প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণ করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায় পৌর শহরসহ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ৫৪টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্যান্য অর্ধশতাধিক বেসরকারি এবং কিন্ডারগার্টেন রয়েছে। বছরের প্রথম দিন ১১৫১০০টি বই বিতরণ করা হয়। এরমধ্যে প্রাক-প্রাথমিকে ৬৫০০টি বই, প্রথম শ্রেণিতে ১৪৪০০টি, ২য় শ্রেণিতে ১৪১০০টি, ৩য় শ্রেণিতে ২৮২০০টি, ৪র্থ শ্রেণিতে ২৭০০০টি বই বিতরণ করা হয়।
১৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১১৬৯০০টি বই বিতরণ করা হয়। এরমধ্যে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ৪১৮০০টি ৭ম শ্রেণিতে ৩৯৬০০টি, ৯ম শ্রেণিতে ৩৫৫০০টি বই রয়েছে। তাছাড়া মাদরাসায় ৩৫৬০০টি বই বিতরণ করা হয়। এরমধ্যে ১ম শ্রেণিতে ৩০০০ টি, ২য় শ্রেণিতে ৩০০০টি,৩য় শ্রেণিতে ৪০০০টি, ৪র্থ শ্রেণিতে ৪০০০ টি ৫ম শ্রেণিতে ৪০০০টি, ৭ম শ্রেণিতে ৯১০০টি, ৮ম শ্রেণিতে ৫৬০০টি ৯ম শ্রেণিতে ২৯০০টি বই রয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী রিয়া আক্তার বলেন নতুন শ্রেণিতে উঠেছি। এখন নতুন বই হাতে পেলাম। নতুন বই পেয়ে খুব ভালো লাগছে।
খড়মপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেণির ছাত্র খাইরুল আলম বলেন বছরের শুরুতেই নতুন বই পেয়ে তার কাছে খুবই আনন্দ লাগছে। নতুন বই নতুন করে রাখতে চাই বলে জানায়।
তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী তাসলিমা বলেন, নতুন বই পেতে সকালেই বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়। নতুন বই হাতে পেয়ে খুবই ভালো লাগছে।
আখাউড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ ইলিয়াস উদ্দীন বলেন, পৌর শহরসহ উপজেলার ৫৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১১৫১০০টি বই পেয়েছি। স্বস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বইগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া হয়। ওইসব বই বছরের প্রথম দিন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করেন।
উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার মো: কফিল উদ্দিন মাহমুদ বলেন, এ উপজেলায় ১৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১১৬৯০০টি বই ও ৭ টি মাদরাসায় ৩৫৬০০টি বই বিতরণ করা হয়। মাধ্যমিকে চাহিদানুযায়ী ৬৯.৭৭ শতাংশ ও মাদরাসায় ৬৫.২০ শতাংশ বই পেয়েছি। আশা করছি বাকীসহ বই স্বল্প সময়ের মধ্যে পেয়ে যাব।

