গাজা সিটির সুসি টাওয়ারকে লক্ষ্য করে ইসরাইলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। এটি শহরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বহুতল ভবন, যা ধ্বংসের মাধ্যমে চলমান যুদ্ধে প্রথম বড় টাওয়ার ভেঙে ফেলা হলো।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ এক্সে (সাবেক টুইটার) ধ্বংসস্তূপের একটি ভিডিও শেয়ার করে লিখেছেন— “আমরা হামলা চালিয়ে যাচ্ছি।”
আইডিএফের দাবি, সুসি টাওয়ার হামাস ব্যবহার করছিল। তবে হামাস এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। হামলায় হতাহতের বিষয়ে এখনো কিছু জানা যায়নি। এর আগে স্থানীয়দের জন্য লিফলেট ফেলে গাজাবাসীকে দক্ষিণের আল-মাওয়াসি এলাকায় সরে যেতে আহ্বান জানায় আইডিএফ। তাদের দাবি, সেখানে চিকিৎসা, পানি ও খাদ্যের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু জাতিসংঘ জানিয়েছে, আল-মাওয়াসির ক্যাম্পগুলোতে উপচে পড়া ভিড়, নাজুক অবস্থা এবং হাসপাতালে অতিরিক্ত চাপের কারণে পরিস্থিতি মারাত্মক হয়ে উঠছে। গত সপ্তাহে সেখানেই পানি আনতে লাইনে থাকা পাঁচ শিশু নিহত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা ড্রোন হামলার অভিযোগ তুললেও আইডিএফ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
এর আগের দিন, শুক্রবার শহরের আল-রিমাল এলাকার মুশতাহা টাওয়ার ধসে পড়ে এক বিস্ফোরণের পর। আইডিএফ দাবি করে, তারা বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছিল। তবে ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, ওই ভবনে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো আশ্রয় নিয়েছিল।
গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসসাল অভিযোগ করেছেন, ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার নীতি অনুসরণ করছে। স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যাচ্ছে, গত এক মাসের ধারাবাহিক হামলায় শহরের বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
গাজা সিটির আবাসিক ও বাণিজ্যিক টাওয়ারগুলো একসময় শহরের সমৃদ্ধি ও স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গড়ার আশা বহন করত। ১৯৯০–এর দশকে অসলো চুক্তির পর থেকে বহুতল ভবন নির্মাণ শুরু হলে নির্বাসন থেকে ফিরে আসতে শুরু করেছিলেন হাজার হাজার ফিলিস্তিনি। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি পুরো শহরকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এখনো প্রায় ১০ লাখ মানুষ গাজা সিটিতে অবস্থান করছে, যেখানে ইতোমধ্যেই দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা হয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, চলমান হামলা অব্যাহত থাকলে মানবিক বিপর্যয় ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরাইলের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে হামলা চালালে ১,২০০ মানুষ নিহত এবং ২৫১ জন জিম্মি হয়। এর পর থেকেই গাজায় সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৬৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং অপুষ্টি ও অনাহারে মারা গেছে অন্তত ৩৬৭ জন।

