আপনার হাতে ২–৩ লাখ টাকা জমেছে। কী করবেন, কোথায় রাখবেন—এই প্রশ্নে অনেকে দ্বিধাগ্রস্ত হন। অনেকেই প্রথমে সঞ্চয়পত্র বা এফডিআরে (স্থায়ী আমানত) টাকা রাখার কথা ভাবেন। তবে কোনটি বেছে নেবেন, তা নিয়ে ভাবা জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, টাকার একটি অংশ সঞ্চয়পত্রে, অন্য অংশ এফডিআরে রাখা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। এতে ঝুঁকি কম থাকে।
সঞ্চয়পত্র
মধ্যবিত্তের জন্য সঞ্চয়পত্র জনপ্রিয় কারণ বিনিয়োগ সহজ, ঝামেলা নেই এবং এটি সরকারি গ্যারান্টি প্রাপ্ত।
সুবিধা:
- সরকারি গ্যারান্টি থাকায় টাকা হারানোর ঝুঁকি নেই।
- এফডিআরের তুলনায় সুদের হার বেশি—বর্তমানে প্রায় ১২%।
- দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চিত রিটার্ন।
- কর রেয়াত সুবিধা পাওয়া যায়।
- জরুরি প্রয়োজন হলে ভাঙা সম্ভব; সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্যও ব্যবহারযোগ্য।
অসুবিধা:
- সীমাবদ্ধ পরিমাণে কেনা যায় (পরিবার: ৪৫ লাখ, পেনশনার: ৫০ লাখ)।
- মেয়াদ পূর্ণের আগে ভাঙলে মুনাফা কমে যায়।
- মুনাফার উৎসে কর কাটা হয়।
- নগদায়নের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সুবিধা সীমিত।
এফডিআর (স্থায়ী আমানত)
এফডিআর ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য টাকা রেখে মুনাফা পাওয়া হয়।
সুবিধা:
- ৩ মাস থেকে ৫ বছর পর্যন্ত মেয়াদ বেছে নেওয়া যায়।
- এফডিআরের বিপরীতে ঋণ নেওয়া যায় (সাধারণত ৯০% পর্যন্ত)।
- কিছু ব্যাংক মাসিক বা ত্রৈমাসিক সুদ প্রদান করে, নিয়মিত আয় হিসেবে ব্যবহারযোগ্য।
- প্রয়োজন হলে তুলনামূলক সহজে ভাঙা যায়।
অসুবিধা:
- সাধারণত সঞ্চয়পত্রের তুলনায় সুদের হার কম (৬–৯%)।
- ব্যাংকের স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যৎ।
- সময়ের আগে ভাঙলে সুদ কমে যায়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
সর্বোত্তম ফলাফলের জন্য টাকার একটি অংশ সঞ্চয়পত্রে ও অন্য অংশ এফডিআরে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। এতে ঝুঁকি কম থাকে এবং আয়ের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।

