সত্যজিৎ দাস:
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) একটি এলিট ফোর্স হিসেবে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মাদক উদ্ধার, সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমন,অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার,চাঁদাবাজি ও ছিনতাই প্রতিরোধসহ বিভিন্ন নৃশংস অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। জনসাধারণের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য সমাজ গঠনে র্যাবের সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশে ভোক্তাদের অধিকার রক্ষা আইন, ২০০৯ অনুযায়ী প্রতিটি পণ্যে সঠিক মোড়ক বা প্যাকেজিং,গুণগত মান,পরিমাণ,মূল্য,উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। তবে অভিযোগ রয়েছে,অনেক ব্যবসায়ী এসব বিধান মানছেন না,যা সরাসরি ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। আইন অনুযায়ী এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা,কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে র্যাব-৯,সিলেট ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, সিলেটের সহায়তায় র্যাব-৯,সদর কোম্পানি, সিলেটের একটি আভিযানিক দল আজ ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ বিকাল আনুমানিক ৪টা থেকে সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) আওতাধীন বন্দরবাজার সিটি সুপার মার্কেট ও লাল দিঘীর পাড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে পণ্যের মোড়ক ব্যবহার না করা এবং প্রতিশ্রুত পণ্য বা সেবা যথাযথভাবে বিক্রয় বা সরবরাহ না করার অপরাধে চারটি প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। এর মধ্যে পলাশ এন্টারপ্রাইজের মালিককে ৫০ হাজার টাকা,মেসার্স বাবলা স্টোরের মালিককে ২০ হাজার টাকা,মেসার্স রজব অ্যান্ড ব্রাদার্সের মালিককে ৫০ হাজার টাকা এবং মেসার্স রেইনবো ট্রেডিংয়ের মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় মোট ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
র্যাব-৯,সিলেটের মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান,দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের স্বার্থে র্যাব-৯ এর গোয়েন্দা তৎপরতা ও এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

