সুলতান মাহমুদ, দিনাজপুরঃ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই সময়ে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটকে কেন্দ্র করে দিনাজপুরে জনসচেতনতা বাড়াতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে জেলা তথ্য অফিস।
উঠান বৈঠক, লিফলেট বিতরণ, মাইকিং ও ভোটের গাড়িসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ এখনো গণভোটের প্রক্রিয়া ও তাৎপর্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পায়নি। নতুন ভোটারদের পাশাপাশি বয়স্ক ভোটারদের মধ্যেও এ নিয়ে বিভ্রান্তি ও কৌতূহল লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ে প্রচার কার্যক্রম চলমান থাকলেও গণভোট ধারণাটি একেবারেই নতুন হওয়ায় অনেকেই বুঝতে পারছেন না—গণভোট কেন প্রয়োজন, কীভাবে ভোট দিতে হবে, ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে কী উপকার হবে এবং এর মাধ্যমে নাগরিক অধিকার কীভাবে সংরক্ষিত থাকবে।
জুলাই আন্দোলনের পর সংস্কার, নাগরিক অধিকার, জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা ও মৌলিক অধিকার নিয়ে মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সংস্কার প্যাকেজ সম্পর্কে মানুষ শুনলেও গণভোটের সঙ্গে এসবের সরাসরি সম্পর্ক অনেকের কাছেই এখনও অস্পষ্ট।
দিনাজপুর রেলস্টেশন এলাকার চা দোকানদার ফারুক আহমেদ বলেন, গণভোট সম্পর্কে বিস্তারিত জানি না। তবে জুলাই আন্দোলনের পর বিভিন্ন কমিশন গঠনের কথা গণমাধ্যমে দেখেছি। সেসব সংস্কারকে আইনে রূপ দিতে গণভোটের প্রয়োজন আছে—এমনটাই ধারণা করছি। ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে নাগরিক অধিকার আরও শক্ত হবে—এটুকু বুঝেছি।
অটোচালক মহিউদ্দিন (২৬) বলেন, গণভোট শব্দটা এই প্রথম শুনছি। শুনেছি এখানে কোনো প্রার্থী থাকে না। ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে মানুষের অনেক অধিকার নিশ্চিত হবে এবং সংবিধানের কিছু বিষয়ে সংস্কার হবে। তবে বিস্তারিত জানার সুযোগ পাইনি।
দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহরিন আক্তার খুশি বলেন, গণভোট নিয়ে আমরা কিছুটা সচেতন। সরকারের চলমান সংস্কার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে ‘হ্যাঁ’ ভোট গুরুত্বপূর্ণ। এটিই আমার জীবনের প্রথম ভোট। তাই পছন্দের প্রার্থীর পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেব।
দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রঞ্জু বলেন, “গণভোট সরকারের একটি মহৎ উদ্যোগ। চলমান সংস্কার ও নাগরিক অধিকার সংরক্ষণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ‘হ্যাঁ’ ভোট মানেই নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের পক্ষে অবস্থান। তাই আমি নিজে যেমন ভোট দেব, তেমনি আত্মীয়-স্বজনদেরও উদ্বুদ্ধ করছি।
দিনাজপুর সিনিয়র তথ্য অফিসার সাদিয়া আফরিন সেফা জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সাধারণ মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে গণভোটের বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে অনেকেই বিষয়টি বুঝতে না পারলেও ব্যাখ্যা দেওয়ার পর তারা আগ্রহ দেখাচ্ছেন। গণভোট পরবর্তী সরকারের জবাবদিহিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে থাকবে—এই বার্তাই আমরা দিতে চাই, তিনি বলেন। পাশাপাশি তিনি মনে করেন, নির্বাচনী এলাকার প্রার্থীরা যদি নিজ নিজ প্রচারণার সঙ্গে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের গুরুত্বও তুলে ধরেন, তবে সরকারের উদ্দেশ্য আরও সহজে মানুষের কাছে পৌঁছাবে।

