সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনের ওপর প্রকাশ্য হামলা চালিয়েছে জেলা গণঅধিকার পরিষদ নেতা হাসানুর রহমান ওরফে মিনিস্টার হাসানের পরিবার।মানববন্ধনরত প্রতিবাদকারীদের ওপর চড়াও হয় হাসানের স্ত্রী রুবি খাতুন, ভাবি লিপি খাতুন এবং সহযোগী আয়শা খাতুন।তারা মানববন্ধনে প্রদর্শিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড ছিঁড়ে ফেলে, বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতিতে মানববন্ধন পণ্ড হয়ে যায়। ভিডিও ফুটেজে হামলার দৃশ্য ধরা পড়েছে, তবুও এখনো কোনো অপরাধী গ্রেফতার হয়নি।পুলিশ বলছে অভিযোগ পেলে দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার করা হবে।
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৫ টায় সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা বাজারের পাঁচ রাস্তার মোড়ে এঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযোগ করেছেন, হাসানুর রহমান হাসান ও তার পরিবার আগেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়েছেন। স্বেচ্ছাসেবক নেতা শাহিনুর কবির ও তার পরিবারের ওপর নিয়মিত হামলা ও হয়রানি চালিয়েছেন।গত শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) শাহিনুর ও তার পরিবারের ওপর হামলার ঘটনায় হাসানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে পাটকেলঘাটা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।মামলায় জমি নিয়ে বিরোধ, হামলা ও শ্লীলতাহানির মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।শাহিনুরের বাবা লিয়াকাত গাজী বাদী হয়ে অভিযোগ করেছেন,”মিনিস্টার হাসান আওয়ামী সরকারের সাবেক মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন হওয়ায় ক্ষমতার দাপটে সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল।
এদিকে,শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটার পাঁচরাস্তার মোড়ে ‘পাটকেলঘাটাবাসী’ ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে মামলার আসামীদের গ্রেফতার,শাস্তি ও সুবিচার চাওয়া হয়েছিল।
মানববন্ধনের শুরুতেই হামলাকারীরা প্রতিবাদকারীদের ওপর আক্রমাত্তক ও চড়াও হয়।তারা মানববন্ধনে আনা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড ছিঁড়ে ফেলে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলাকারীরা মানুষের উপস্থিতির মধ্যেও রাজনৈতিক দলের প্রভাব খাটিয়ে প্রচন্ড দাপট দেখিয়েছে এবং মানববন্ধনকে পন্ড করে দিয়েছে।
হামলার পর স্থানীয়রা দ্রুত থানা পুলিশকে অবগত করার চেষ্টা করেন। একাধিকবার ফোন করেও পুলিশ কোনো সাড়া দেয়নি। স্থানীয়রা প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ঘটনা স্থলে উপস্থিত পাটকেলঘাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল মোমিনসহ একাধিক সাংবাদিক ও প্রত্যাক্ষদশী বলেন, প্রকাশ্য হামলার পরও পুলিশকে একাধিক বার জানানো হলেও ঘটনাস্থলে পুলিশ আসেনি, এমনকি জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯-এ কল দিলেও পুলিশ আসেনি। পুলিশের নীরবতা সহিংসতাকে উৎসাহিত করছে।”
এদিকে হামলার পর ভুক্তভোগী পরিবার পাটকেলঘাটা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে পুনরায় দাবি করেছেন, হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক। তারা জানিয়েছেন, এখনও তাদের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রকাশ্য ভয় অব্যাহত রয়েছে, যা তাদের শান্তিপূর্ণ জীবনযাত্রাকে বিপন্ন করছে।
তারা আহ্বান জানিয়েছেন, প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে, হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন, নইলে তাদের জীবন ও নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মধ্যে থাকবে। পুরো এলাকায় সামাজিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং সাধারণ মানুষ এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনও এই ঘটনার কারণে উত্তেজিত। পুরো এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং বলেছেন, যারা প্রকাশ্য হামলা চালিয়েছে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের নীরবতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব মিলিয়ে যে ধরনের সহিংসতার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, তা স্থানীয় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য মারাত্মক হুমকি। তারা উল্লেখ করেছেন, যেখানে ক্ষমতার দাপট এবং রাজনৈতিক যোগসূত্র মিলিয়ে মানুষকে ভয় দেখানো হয়, সেখানে মৌলিক অধিকার ও আইনশৃঙ্খলার প্রতি আস্থা ক্ষুণ্ণ হয় এবং সাধারণ মানুষ আইনের আশ্রয় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।
এসব বিষয়ে জানতে পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাম্বারে একাধিকবার কল কররেও তিনি রিসিভ করেন নি।সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পলিশ সুপার মুকিত হাসান খান বলেন, মাববন্ধনে হামলার ঘটনায় অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা কোন অপরাধীকে ছাড় দেব না।

