দিনাজপুর প্রতিনিধি:
সারাদেশে আওয়ামী লীগের অনলাইনভিত্তিক ‘লকডাউন কর্মসূচি’র আহ্বান থাকলেও দিনাজপুরে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি।
আজ শনিবার সকাল থেকে শহরের প্রধান সড়ক ও সংযোগপথে যান চলাচল ছিল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। বাজার রোড, স্টেশন রোড, জেলা সড়ক ও বটতলা মোড়ে দেখা গেছে ছোট-বড় যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল। অটোরিকশা, সিএনজি, প্রাইভেট কার, ট্রাক ও ট্রাফিক বাসগুলো চলাচল করেছে আগের মতোই।
রাস্তায় কোথাও কোনো বাধা বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। মানুষজনও ছিল নির্বিঘ্নে চলাফেরা করছে—দোকানপাট আংশিকভাবে খোলা, বিশেষ করে খাদ্য, মুদি, ফার্মেসি ও জরুরি পণ্যের দোকানগুলো স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
রাস্তায় কথা হয় শহরের নিউটাউন এলাকার অটোরিকশাচালক মোঃ সোহেল রানার সঙ্গে। তিনি বলেন, আজ সকাল থেকে রাস্তায় যাত্রী আছে ভালোই। লকডাউন বলে কিছু মনে হয় না। পুলিশও স্বাভাবিকভাবেই কাজ করছে, কোনো বাধা দেয়নি। আমাদের মতো চালকদের জন্য এটা স্বস্তির।
একই এলাকার সিএনজি চালক রবিউল ইসলাম বলেন, শুনেছিলাম নাকি লকডাউন হবে, কিন্তু দিনাজপুরে তেমন কিছু টের পাইনি। যাত্রীও কম না, আগের মতোই চলছে। মানুষ কাজে বের হচ্ছে, বাজারও খোলা।
বাজার রোডে দাঁড়িয়ে থাকা পথচারী শাহিন আলম, যিনি একজন ব্যাংককর্মী, বলেন,আমি প্রতিদিনের মতো অফিসে যাচ্ছি। কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি নেই, যানবাহনও ঠিকঠাক চলছে। অনলাইনে যেভাবে বলা হচ্ছিল, বাস্তবে তা দেখা যাচ্ছে না।
চিরিরবন্দর থেকে আসা যাত্রী রোকেয়া বেগম জানান, ভেবেছিলাম লকডাউনের কারণে হয়তো গাড়ি পাব না, কিন্তু বাস ঠিকই পেয়েছি। কোনো ঝামেলা ছাড়াই দিনাজপুরে এসেছি।
আরেকজন কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী নাফিস রহমান বলেন, আমি ক্লাসে যাওয়ার জন্য সকাল ৯টায় বাসে উঠি। রাস্তায় কোনো প্রতিবন্ধকতা বা আতঙ্ক কিছুই দেখি নাই। সবাই স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করছে।
দিনাজপুর বাহাতুর বাজারের দোকান মালিক হাবিবুল হক বলেন,খাবার, মুদি আর ফার্মেসির দোকান খোলা। মানুষও আসছে। আগের দিনের মতোই বিক্রি হচ্ছে। কেউ ভয় পায়নি, পরিস্থিতি একেবারেই স্বাভাবিক।
এদিকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দল ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নজরদারি চালাচ্ছেন। নিরাপত্তাব্যবস্থাও ছিল স্বাভাবিক, কোনো অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের প্রয়োজন পড়েনি।
দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রঞ্জু বলেন, অনলাইন ঘোষণার এ লকডাউন দিনাজপুরে জনজীবনে কোনো দৃশ্যমান প্রভাব ফেলতে পারেনি। শহরের সার্বিক পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক রয়েছে—চলমান কর্মজীবন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়নি।

