বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার বাইরে কোনো শক্তির চাপ কিংবা আধিপত্য মেনে নেওয়া হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ পরিচালিত হবে মহান আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী, আর জনগণের পছন্দই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি।
শনিবার বিকেলে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ইসলামী ও সমমনা আট দলের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ভয়ের বিষয় হলো একমাত্র আল্লাহ; অন্য কোনো শক্তিকে ভয় পাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। বিশ্বের শান্তিপ্রিয় দেশগুলোর প্রতি সম্মান জানালেও দেশের ওপর কোনো রকম হস্তক্ষেপ বা দাদাগিরি মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, দেশের সর্বত্র এখন পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষায় মুখর মানুষ। সাধারণ জনগণ তাদের ভোটের সিদ্ধান্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছেন, আর কোনো ভয়ভীতি কিংবা চাপের কাছে তারা নতি স্বীকার করছে না। ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা অন্যায্য কোনো শক্তিকে ভয় করেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, যারা বিদেশি শক্তির আনুগত্যে রাজনীতি করতে চান, তাদের আগে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। দেশের মানুষের প্রত্যাশা উপেক্ষা করে বাইরে তাকিয়ে রাজনীতি করে লাভ নেই বলেও উল্লেখ করেন জামায়াতের আমির।
ফ্যাসিবাদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতের স্বৈরাচারী শক্তি দেশ ছেড়ে গেলেও তাদের রেখে যাওয়া সংস্কৃতি এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। একদিকে পালিয়ে যাওয়া অপরাধীদের দায় নিচ্ছে নতুন একটি গোষ্ঠী, অন্যদিকে দখলদারি ও চাঁদাবাজির মতো কর্মকাণ্ড আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাজনীতিতে সংস্কার ও গণভোট বাস্তবায়নের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মানুষ নতুন ধারার রাজনীতি প্রত্যাশা জানালেও কিছু দল এখনো পুরোনো পথেই হাঁটছে। গণভোটের ব্যাপারে অনীহা প্রকাশ করা দলগুলোর বর্তমান অবস্থান নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্র চলছে জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, জনগণ এসব অপচেষ্টা প্রতিহত করতে প্রস্তুত। নির্বাচন ভণ্ডুল বা প্রশাসনিক কৌশলে ফল দখলের যেকোনো চেষ্টা ব্যর্থ হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সমমনা জোটের বাইরে থাকা ইসলামি দলগুলোর উদ্দেশে তিনি ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভিন্ন মঞ্চ থেকে ঘুরে বেড়ানোর প্রয়োজন নেই, নিজেদের ঘরেই ফিরে আসা উচিত। তিনি জানান, ঐক্যবদ্ধ হলে ইসলামী শক্তি আরও শক্তিশালী ভিত্তিতে রাজনীতি গড়ে তুলতে পারবে।

