ঢাকাই চলচ্চিত্রের প্রখ্যাত অভিনেতা শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন, পরিচিত নাম সালমান শাহ, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর অস্বাভাবিকভাবে মারা যান। তার মৃত্যুর পর সালমানের বাবা অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন। সালমানের পরিবার শুরু থেকেই দাবি করে আসছে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আজ ২১ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি যে তার মৃত্যু হত্যা নাকি আত্মহত্যা।
সালমানকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন রেজভী আহমেদ (ফরহাদ), যিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এই জবানবন্দির ভিত্তিতে সালমানের মা ১১ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। ১১ আসামির মধ্যে রয়েছেন সালমানের স্ত্রী সামিরা হক, শাশুড়ি লতিফা হক লুসি, ধনাঢ্য আজিজ মোহাম্মদ ভাই, রেজভী আহমেদ ফরহাদ, চলচ্চিত্রের খল অভিনেতা আশরাফুল হক ডন, নজরুল শেখ, ডেভিড, রাবেয়া সুলতানা রুবি, মোস্তাক ওয়াইদ এবং সালমানের গৃহকর্মী আবুল হোসেন খান।
রেজভী আহমেদের জবানবন্দি অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের রাতে ডনের নেতৃত্বে সালমানের বাসায় প্রবেশ করার জন্য রুবি নিচতলার দরজা খুলেছিলেন। রুবির ঘর থেকে আজিজ মোহাম্মদ ভাই বের হয়ে হত্যাকারীদের সঙ্গে যোগ দেন। রুবি তখন ইস্কাটনে মে ফেয়ার নামের একটি বিউটি পার্লার চালাতেন এবং তার চীনা স্বামী রেস্তোরাঁ ব্যবসা করতেন।
২০১৭ সালে প্রকাশিত একটি ইউটিউব ভিডিওতে রুবি জানিয়েছিলেন, সালমানকে হত্যা করা হয়েছে। ভিডিওতে তিনি বলেন, “এই খুনের সব তথ্য আমার জানা আছে। যেন আবার মামলা তদন্তের ব্যবস্থা করা হয়। আমি আদালতে সাক্ষ্য দেব।” তিনি বারবার সালমানের মাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “ইমন আত্মহত্যা করেনি, তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমার স্বামী এটা করিয়েছেন আমার ভাইয়ের মাধ্যমে। সামিরার পরিবারের লোকজনও এতে জড়িত। আমার ছোট ভাই রুমির মাধ্যমে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। আমারও খুন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই কেস যেন বন্ধ না হয়।”
তৎকালীন সময়ের তদন্ত সংস্থা পিবিআইর বিশেষ পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ বলেন, “রুবি সালমানের বিউটিশিয়ান ছিলেন এবং প্রায়ই তার বাসায় যেতেন। ঘটনার সময় তার অবস্থানও সেখানে ছিল। সালমানের মৃত্যুর পরে রুবি যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। তাকে খুঁজে পাওয়ার পরই তার বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করতে হবে।”
লন্ডনে থাকা সালমান শাহর মা নিলুফার চৌধুরী বলেন, “রুবির এই বক্তব্য স্পষ্ট করে যে, আমার ছেলে হত্যা করা হয়েছে। তাকে নিরাপদভাবে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হোক এবং যারা নাম এসেছে তাদের গ্রেপ্তার করা হোক। আমি বিচার চাই। এত বছর ধরে হতাশায় ভুগছি। দেশে নিরাপত্তা না থাকার কারণে আমি লন্ডনে আছি।”

