প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফট ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ইউনিট ৮২০০-এর ক্লাউড অ্যাক্সেস বন্ধ করে দিয়েছে। জানা গেছে, এই ইউনিট ফিলিস্তিনিদের ওপর ব্যাপক নজরদারির জন্য কোম্পানির অ্যাজিউর ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছিল।
গত বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দ্য গার্ডিয়ান জানায়, ইউনিট ৮২০০ পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকার লাখো ফিলিস্তিনির ফোন কল গোপনে রেকর্ড, সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের জন্য মাইক্রোসফটের ক্লাউড প্রযুক্তি ব্যবহার করছিল। প্রতিদিন ঘণ্টায় প্রায় এক মিলিয়ন কল সংগ্রহের ক্ষমতা সম্পন্ন এই নজরদারি প্রকল্পে ৮ হাজার টেরাবাইট তথ্য নেদারল্যান্ডসে অবস্থিত একটি ডেটা সেন্টারে সংরক্ষণ করা হতো।
এই নজরদারি প্রকল্প শুরু হয় ২০২১ সালে মাইক্রোসফটের সিইও সত্য নাদেলা এবং ইউনিট ৮২০০-এর তৎকালীন প্রধান ইয়োসি সারিয়েলের বৈঠকের পর। পরবর্তী তিন বছর ধরে ইসরায়েলি সেনারা অ্যাজিউরের সীমাহীন স্টোরেজ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে নজরদারি চালিয়েছে। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, প্রাথমিকভাবে পশ্চিম তীরের প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনির ওপর নজরদারি লক্ষ্য থাকলেও, পরে গাজায় বিমান হামলার জন্য লক্ষ্য নির্ধারণেও এ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে।
মাইক্রোসফটের ভাইস-চেয়ারম্যান ও প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড স্মিথ একটি কর্মী ইমেইলে বলেন, “আমরা কখনোই বেসামরিক জনগণের ওপর গণ নজরদারি সহজ করতে প্রযুক্তি সরবরাহ করি না। বিশ্বের প্রতিটি দেশে আমরা এ নীতিতে অবিচল থেকেছি। আমাদের তদন্ত এখনও চলছে, তবে প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনের উপাদানগুলোর সমর্থনে প্রমাণ পেয়েছি।”
এ সিদ্ধান্ত বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি নৈতিকতা ও নাগরিক গোপনীয়তা নিয়ে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করেছে। মাইক্রোসফটের পদক্ষেপকে অনেকে প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন এটি রাজনৈতিক চাপের ফল।

