সত্যজিৎ দাস (মৌলভীবাজার প্রতিনিধি):
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও কর্মচারীর তীব্র সংকটে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জনবল ও সরঞ্জামের অভাবে প্রতিদিন অসংখ্য রোগীকে বাধ্য হয়ে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়,৫০ শয্যার এই হাসপাতালে ১২টি কনসালটেন্ট পদের মধ্যে ৮টি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। বিশেষ করে মেডিসিন, চর্ম ও যৌন, কার্ডিওলজি, নাক-কান-গলা, চক্ষু ও ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগে কোনো জুনিয়র কনসালটেন্ট না থাকায় চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
এছাড়া মেডিকেল অফিসার, সহকারী সার্জন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও), মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, পরিসংখ্যানবিদ, হেলথ এডুকেটর, কম্পিউটার অপারেটর, স্বাস্থ্য সহকারী, অফিস সহায়ক, ওয়ার্ড বয়, বাবুর্চি ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীসহ বহু পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি রয়েছে। ফলে সীমিত জনবল দিয়েই হাসপাতাল পরিচালনা করতে হচ্ছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন বলেন, “৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় আমাদের উপর প্রচুর চাপ পড়ছে। ডাক্তার ও নার্সরা দিনরাত কাজ করছেন,কিন্তু জনবল সংকটের কারণে রোগীদের প্রত্যাশিত সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। আমরা ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট একাধিকবার চিঠি পাঠিয়েছি।”
তিনি আরও জানান,“OT’তে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকতে হয়,কিন্তু বৈদ্যুতিক ব্যাকাপ না থাকায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। হাসপাতালের অভ্যন্তরে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হলেও পুরাতন পাইপলাইন,টয়লেটের বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও হাসপাতাল ভবনের আশেপাশের জঙ্গল বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারওপর এই কয়েকমাস ধরে হাসপাতালে আগত রোগীদের সংখ্যাও বেশি। তবুও আমরা সর্বোচ্চ সেবা দিতে চেষ্টা করে যাচ্ছি।”
এদিকে জনবল সংকটের কারণে উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রেও তৃণমূল স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান বলেন,“শ্রীমঙ্গলের আশপাশসহ দূর-দূরান্ত থেকে বহু রোগী স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসেন। বিভিন্নজনের অভিযোগ থাকলেও,স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও কর্মীরা সীমিত জনবল নিয়েও আন্তরিকভাবে কাজ করছেন।”
তিনি ওষুধ সরবরাহ প্রসঙ্গে বলেন,“সরকারি হাসপাতালে কোন কোন ওষুধ দেওয়া হবে,তার একটি নির্দিষ্ট তালিকা রয়েছে। সেই তালিকার বাইরে ওষুধ দেওয়া সম্ভব নয়। কেউ কেউ বলেন সরকারি ওষুধ পাওয়া যায় না,এটা সঠিক নয়। সরকার থেকে আমাদের যা দেয়া হয়,সেগুলো ওষুধ হাসপাতালে তালিকাভুক্ত আছে”।
সিভিল সার্জন আরও বলেন,” জনবল সংকট নিরসনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি দিয়েছি। ডিজি স্যারের ভাষ্য অনুযায়ী প্রতিটি উপজেলায় কমপক্ষে পাঁচজন করে ডাক্তার দেয়া হতে পারে আগামী ডিসেম্বরের আগে। এমএসআর করা শুরু হয়ে গেলে,ওরা যখন ওষুধ পাবে,ঠিকাদাররা ঔষধ দিবে, তখন সমস্যার সমাধান হবে। ভ্যাকসিনের ঘাটতি দূর করতেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি দিয়ে যাচ্ছি, যাতে জনগণ নির্বিঘ্নে টিকাসেবা পেতে পারে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা হেল্থ কমপ্লেক্সের একজন কর্মচারী বলেন,”পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য তো লোক আছে,তারা ঠিকমতো কাজ করেন না। শুধু রোগী নয় আমাদের স্টাফদের বাথরুম গুলোর পয়ঃনিষ্কাশনের পাইপলাইন ব্লক হয়ে আছে, আবার ৪-৫টি ছাড়া সবগুলো বন্ধ। বিল্ডিংয়ের বাইরে যেখানে ফুলের বাগান থাকার কথা,সেখানে ঘন জঙ্গল ও ময়লার ভাগাড়”।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন,সরকার দ্রুত পদ পূরণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের কার্যক্রম না করলে, শ্রীমঙ্গলের স্বাস্থ্যসেবা আরও ভেঙে পড়বে,এমনকি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

