মীর ইমরান -মাদারীপুর প্রতিনিধি:
মাদারীপুরের শিবচরে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করা বৃদ্ধা রানু বেগম (৬০) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) মাদারীপুর-৮। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় তদন্তে প্রাপ্ত মূল আসামি কাজী রাসেল মাহমুদ ওরফে সবুজ (৩০) কে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৮, সিপিসি-৩ মাদারীপুর। এ সময় ভিকটিমের লুণ্ঠিত একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর ১০-৩০ মিনিট দিকে,শিবচর উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের,চর কাচিকাটা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে রানু বেগমের গলা কাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের ছেলে খোকন হাওলাদার অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে শিবচর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ভয়াবহ এ হত্যাকাণ্ড দ্রুতই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং গণমাধ্যমে সংবাদের শিরোনাম হয়।
পরে র্যাব-৮ এর একটি বিশেষ দল গোয়েন্দা নজরদারি ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে, বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শিবচর উপজেলার পাচ্চর চরকান্দি এলাকা থেকে আসামি সবুজকে গ্রেফতার করে মাদারীপুর -৮ র্যাব ।
আটককৃত আসামীর নিকট থেকে ভিকটিমের লুণ্ঠিত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সবুজ র্যাবকে জানায়, প্রায় নয় মাস আগে ভাড়াটিয়া হিসেবে রানু বেগমের বাড়িতে ওঠে সে। কিছুদিন পর চুরির ঘটনায় তাকে সন্দেহ করায় ও মনোমালিন্য তৈরি হলে বাসা ছেড়ে চলে যায়। এতে তার মনে রানুর প্রতি ক্ষোভ জন্ম নেয়। সেই ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে গত ২১ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে রানুর বাড়িতে প্রবেশ করে সকালে সুযোগ বুঝে ধারালো কাঁচি দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে রানু বেগম কে । হত্যার পর দুটি মোবাইল ফোন, কানের দুল, রাইস কুকার, কাপড়-চোপড় ও নগদ অর্থ লুট করে পালিয়ে যায়।
আসামি আরও জানায়, লুণ্ঠিত মালামালের মধ্যে একটি মোবাইল ফোন ও কানের দুল সে বিক্রি করে দিয়েছে। উদ্ধার হওয়া আলামতসহ গ্রেফতার আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিবচর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মাদারীপুর -৮ র্যাব,,সিপিসি -৩,কোম্পানি কমান্ডার মীর মনির হোসেন জানান , এ ধরনের ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

