নিজস্ব প্রতিবেদক, দিনাজপুর:
দিনাজপুর-৫ (পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী) আসনে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। তবে এবারের লড়াই অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন আমেজ নিয়ে এসেছে। রাজপথের আন্দোলনের পাশাপাশি এবার আইনি অঙ্গনের দুই দিকপাল মুখোমুখি হচ্ছেন ভোটের ময়দানে।তাঁরা দুজন এ আসনে একটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন আর তা হলো ব্যারিস্টার এবং অ্যাডভোকেটের লড়াই। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর -৫ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে ‘ ধানের শীষ ‘ প্রতীকে লড়ছেন ব্যারিস্টার কামরুজ্জামান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘ হরিণ ‘ প্রতীকে লড়ছেন এ্যাডভোকেট বেলাল।
সাধারণত আদালত পাড়ায় যাদের আমরা সওয়াল-জবাব আর আইনি যুক্তি-তর্কে ব্যস্ত থাকতে দেখি, সেই দুই ‘ল’ ইয়ার এখন ব্যস্ত সাধারণ মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ভোট প্রার্থনা করতে। ব্যারিস্টার কামরুজ্জামান তার উচ্চশিক্ষা এবং আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, অ্যাডভোকেট বেলাল তার দীর্ঘদিনের তৃণমূল সম্পৃক্ততা এবং মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে চাইছেন।
ব্যারিস্টার কামরুজ্জামান: তার প্রধান শক্তি হলো আধুনিক দিনাজপুর গড়ার প্রতিশ্রুতি এবং উচ্চশিক্ষিত শ্রেণির সমর্থন। তিনি আইনি লড়াইয়ের তীক্ষ্ণতাকে উন্নয়নের মডেলে রূপান্তর করতে চান।
অ্যাডভোকেট বেলাল: তার তুরুপের তাস হলো দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এবং সাধারণ মানুষের সাথে তার নিবিড় সংযোগ। আদালতের বার থেকে শুরু করে পাড়ার মোড়—সবখানেই তার বিচরণ।
লড়াইটা দুই আইনজীবীর মধ্যে সীমাবদ্ধ ভাবলে ভুল হবে। এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর পাশাপাশি নির্বাচনী দৌড়ে রয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা। তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ এলাকা এবং সমর্থকদের নিয়ে ভোটের সমীকরণ পাল্টে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। বিশেষ করে বড় দলগুলোর বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উপস্থিতি এই লড়াইকে আরও শ্বাসরুদ্ধকর করে তুলেছে।
পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ীর সাধারণ ভোটাররা এখন এই ‘আইনি যুদ্ধ’ বেশ উপভোগ করছেন। তারা বলছেন, “আদালতে তারা কি করেন সেটা বড় কথা নয়, আমাদের কাছে বড় কথা হলো কে আমাদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকবেন।”
দিনাজপুর-৫ আসনের এই লড়াই শেষ পর্যন্ত কার দিকে হেলে পড়বে—ব্যারিস্টার সাহেবের ‘লজিক’ নাকি অ্যাডভোকেট সাহেবের ‘ম্যাজিক’? তার উত্তর মিলবে ভোটের দিন সন্ধ্যায়।

