বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থায় গত কয়েক দিনে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি। একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হলেও তাঁর প্রধান স্বাস্থ্য জটিলতাগুলো এখনো সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে। বর্তমানে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদ্যন্ত্র এবং ফুসফুসের মতো জটিল সমস্যাগুলো ওঠানামা করছে। এ কারণেই তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। রোববার (১১ ডিসেম্বর) রাত পর্যন্ত তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল নয়, আবার অবনতিও ঘটেনি—মোটামুটি আগের মতোই রয়েছে বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।
চিকিৎসা ও বিদেশযাত্রা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের সাথে যুক্ত একটি সূত্র গতকাল রাতে জানিয়েছে, বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে চিকিৎসকেরা খালেদা জিয়াকে বিদেশ নেওয়ার সম্ভাব্য সময় আরও দুই দিন পেছানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দীর্ঘ বিমানযাত্রার ঝুঁকি থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর বিদেশযাত্রার বিষয়টি এখন নির্ভর করছে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শারীরিক পরিস্থিতির উন্নতির ওপর।
এই অনিশ্চয়তার কারণে তাঁর বিদেশযাত্রার সম্ভাব্য তারিখ বারবার পরিবর্তিত হচ্ছে। এর আগে বিএনপি ৫ ডিসেম্বর, ৭ ডিসেম্বর এবং সর্বশেষ ৯ ডিসেম্বর সম্ভাব্য তারিখ জানালেও, এখন পর্যন্ত সেই সময় নিশ্চিত করা যায়নি।
গত শনিবার রাতে মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা জরুরি বৈঠকে বসে তাঁর সামগ্রিক অবস্থা পর্যালোচনা করেন এবং শনি ও রোববার তাঁর বেশ কিছু নতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। আজ সোমবার এই রিপোর্টগুলো পর্যালোচনার জন্য বোর্ডের আরেকটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
চিকিৎসকেরা বিশেষ করে তাঁর ডায়াবেটিসের মাত্রা, কিডনির কার্যকারিতা এবং হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসের জটিলতার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। মেডিকেল বোর্ডের ঘনিষ্ঠ সূত্রের মতে, তাঁর ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসের সমস্যা কিছু সময় নিয়ন্ত্রণে থাকলেও হঠাৎ করে তা আবার বেড়ে যাচ্ছে। চিকিৎসা কার্যক্রমে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানও লন্ডন থেকে এসে যুক্ত রয়েছেন এবং প্রতিদিন তাঁর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন।
চিকিৎসকদের অভিমত, মূল জটিলতাগুলো নিয়ন্ত্রণে না আসায় এবং সার্বিকভাবে স্থিতিশীল অবস্থায় না থাকায়, খালেদা জিয়া এখনো আশঙ্কামুক্ত নন এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তাঁর সংকটাপন্ন শারীরিক অবস্থা নিয়ে দেশবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

