শুনশান করিডোর! আলোচনা থমকে গেছে! রাজনৈতিক মঞ্চে এখন কেবলই অবিশ্বাস আর পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি! জুলাই সনদ বাস্তবায়ন—যা ছিল এদেশের গণতন্ত্রের নতুন দিশা—আজ তা এসে দাঁড়িয়েছে এক বন্ধ দরজার সামনে। কারণ? নিজেদের মধ্যে সমঝোতার অভাব!
সরকার মাত্র সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়েছিল। বলেছিলেন, “আপনারা নিজেরা বসুন, ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত দিন। নয়তো আমরা আমাদের মতো করে সিদ্ধান্ত নেব।” সেই সাত দিনের সময়সীমা শেষ হচ্ছে আগামীকাল সোমবার! কিন্তু সমঝোতার কোনো লক্ষণ কি দেখা যাচ্ছে? না!
আসলে, পুরো উদ্যোগটাই থমকে আছে এক বড় রাজনৈতিক দলের অনাগ্রহে।
জামায়াতে ইসলামী আলোচনায় বসার জন্য কমিটি তৈরি করল। বিএনপির মহাসচিবকে ফোন করে আলোচনার প্রস্তাবও দিল। কিন্তু বিএনপি সাড়া দিল না! তাদের স্পষ্ট কথা: “আমরা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের আহ্বানে বসতে রাজি নই। সরকার উদ্যোগ নিলে, তবেই আলোচনায় বসব।”
অন্যদিকে, গণতন্ত্র মঞ্চ, এনসিপি, এবি পার্টিসহ ৯ দলের যে উদ্যোগ, সেটাও এগোয়নি। সবার চেষ্টা চলছে, কিন্তু বরফ গলছে না।
দেখুন, পরিস্থিতি এখন কতটা উত্তপ্ত! জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন: “সোজা আঙুলে যদি ঘি না ওঠে, আঙুল বাঁকা করব!”
আর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ পাল্টা প্রশ্ন তুলছেন: “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা যদি আহ্বান জানায়, আমরা যাব। কিন্তু অন্য কোনো একটি রাজনৈতিক দল দিয়ে আমাদের আহ্বান জানানো হচ্ছে কেন?”
দুই প্রধান পক্ষের এই অনড় অবস্থানের ফলে সমঝোতার সম্ভাবনা এখন ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর!
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ইঙ্গিত করছেন, “কথায় কথায় আপনি রাস্তায় যাবেন। এখন অন্য দল যদি তার প্রতিবাদে আবার রাস্তায় যায়, তাহলে কী হবে; সংঘর্ষ হবে!”
আর জামায়াতের নেতা হামিদুর রহমান আযাদ এর জবাবে বলছেন, আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের এই আচরণে আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিল পাওয়া যাচ্ছে! তিনি বলছেন, “এই কালচার থেকে কি আমরা বের হতে পারি না?”
একদিকে ‘আঙুল বাঁকা করার’ হুমকি, অন্যদিকে ‘অন্যের আহ্বানে বসব না’—এই টানাপোড়েনে রাজনৈতিক সচেতন মহল বলছে, সরকারি মধ্যস্থতা ছাড়া কোনো ফল আসার সম্ভাবনা নেই। কিন্তু সরকার তো আলোচনার আয়োজনে নারাজ!
সময় শেষ! ঘড়ির কাঁটা দ্রুত ঘুরছে। রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ হতে পারেনি। তারা সরকারের আহ্বানে সাড়া দিতে পারেনি।
তাহলে কি সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকেই নিতে হবে? জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি কী হবে? কবে হবে সেই গণভোট?
ক্ষমতার চাবিকাঠি এখন সরকারের হাতে। তারা কি রাজনৈতিক দলগুলোর মতভেদকে পাশ কাটিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেবে? নাকি শেষ মুহূর্তে আসবে কোনো নাটকীয় মোড়?
আপনার কী মনে হয়? এই অচলাবস্থা থেকে বের হওয়ার পথ কী?
কী হতে চলেছে? কমেন্টে আপনার মূল্যবান মতামত জানান!

