শাহজাহান আলী মনন, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:
নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের জাতীয় পার্টি মনোনীত জাতীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী শিল্পপতি আলহাজ্ব সিদ্দিকুল আলম সংবাদ কর্মীদের সাথে মতবিনিময় করেছেন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৫ টায় ইকু হেরিটেজ হোটেল এন্ড রিসোর্টের হলরুমে এই আয়োজন করা হয়। এতে সংবাদ কর্মীরাসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাবেক এমপি আলহাজ্ব সিদ্দিকুল আলম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার তথা নির্বাচিত হয়ে কি কি কাজ করবেন সে বিষয়ে পরিকল্পনা তুলে ধরেন। বিগত দ্বাদশ সংসদের ৭ মাস মেয়াদে যে কাজ করেছেন তা উল্লেখ করে বলেন, এমপিরা ইচ্ছে করলে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করতে পারে। এপথ আমার জানা হয়ে গেছে।
তিনি দৃঢ়তার সাথে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে বলেন, আমি এমপি হলে প্রথমত রেলওয়ে কারখানার উন্নয়ন, রেলওয়ের জমি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং রেলওয়ে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল বাস্তবায়ন করবো। বিমানবন্দর কে আন্তর্জাতিক মানের করাসহ সৈয়দপুরকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীতকরণ এবং শিক্ষা নগরী সৈয়দপুরে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করবো।
তিনি আরও বলেন, আসনের আরেক উপজেলা কিশোরগঞ্জ কৃষি ক্ষেত্রে খুবই উন্নত। কৃষকদের কষ্টার্জিত ফসলের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তির জন্য বাজারজাত সহজলভ্য করতে যোগাযোগ ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ উন্নয়ন করাসহ ফসল সংরক্ষণে বড় আকারের হিমাগার নির্মাণ করবো। সৈয়দপুর থেকে কিশোরগঞ্জ যাওয়ার সহজ সড়ক খাতামধুপুর হয়ে নিতাই ইউনিয়নের রাস্তাটি সম্প্রসারণ ও সম্পূর্ণ পাকাকরণ সম্পন্ন করা হবে।
সাবেক এমপি সিদ্দিকুল আলম বলেন, আমার প্রায় দুই ডজন শিল্প ও বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানে ৯ হাজার ৬৪০ জন মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এমপি হলে আরও অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। এতে আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
রেলওয়ের জমিতে মাথাগোঁজার ঠাই করা দরিদ্র লোকজনসহ উর্দুভাষী ক্যাম্পবাসীদের জন্য সরকারি আবাসনের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, সকলের ন্যুনতম মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে আমি অঙ্গীকারাবদ্ধ।
সাংবাদিক মমিনুল আজাদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিনোদনের জন্য সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জে দুইটি আধুনিক পার্ক স্থাপন করাসহ স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালকে ২৫০ শয্যার এবং কিশোরগঞ্জের ৫০ শয্যার হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার কথা জানান। এছাড়াও সৈয়দপুর স্টেডিয়ামে পৃথক পৃথক ফুটবল ও ক্রিকেট গ্যালারী নির্মাণ করাসহ শিল্প সংস্কৃতি চর্চা বৃদ্ধির জন্য শিল্পকলা একাডেমির শাখা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন।
আলহাজ্ব সিদ্দিকুল আলম আরও বলেন, একজন এমপি যদি ৫ বছর সঠিকভাবে কাজ করেন তাহলে নির্বাচনী এলাকায় কোন রাস্তা কাঁচা থাকবেনা। এরপর কাজ করার মতো আর কিছুই বাকি থাকবেনা। আমার আর চাওয়া পাওয়ার কিছুই নাই। আমি চাই সৈয়দপুর কিশোরগঞ্জের উন্নয়ন। আমাকে লাঙ্গল মার্কায় ভোট দিয়ে গতবারের মত কাজ করার সুযোগ দেন।
জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের মন্তব্য প্রসঙ্গে সাংবাদিক জসিম উদ্দিনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গণভোটে হা বা না বিষয়ে দলগতভাবে কোন সিদ্ধান্ত এখনো জানানো হয়নি। আমি ব্যস্ত আমার নির্বাচন নিয়ে। সাংবাদিক আমিরুল হক আরমানের জিজ্ঞেসায় তিনি বলেন, আমাদের দলীয় কোন কোন্দল বা দ্বন্দ্ব নেই। বরং গতবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে যে ভোট পেয়েছি এবার তার দ্বিগুণ পাবো।
এম এ করিম মিস্টারের প্রশ্নের উত্তরে সিদ্দিকুল আলম বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে আশঙ্কাতো আছেই। এখনই আমার কর্নী সমর্থকদের হুমকি দেয়া হচ্ছে। এমনকি সাধারণ ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে গেলে পা ভেঙ্গে দেয়ার মত ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। একটা বড় দলের পক্ষ থেকে এমন করা হচ্ছে।
তবে তারা দূর্বল তাই এপথ বেছে নিয়েছে বলে জানান তিনি। তারা আমাকে ঠেকাতে ডিসি অফিসেই ষড়যন্ত্র করেছিল। কিন্তু পারেনি। তারপর নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছিল। তাতেও ব্যর্থ হয়েছে। জয় পরাজয় আল্লাহর হাতে। আল্লাহ তাইলে আমি বিজয়ী হবো। কারণ আমার কোন ফল্ট নাই। মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।

