আবুল হাসনাত, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনে জামায়াতের নির্বাচনী প্রচারণা পথসভার আয়োজন চলাকালে নেতা-কর্মীর ওপর হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠেছে বিএনপি’র বিরুদ্ধে। আর বিএনপি দুষছে জামায়াতকে।
ছবি তোলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে বলে গণমাধ্যমকে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারণা অফিস হওয়ায় সামান্য কারণে ভুল বুঝাবুঝি থেকে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও এমন ঘটনা ঘটে । এতে মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টিহয় বলে জানান স্থানীয়রা।
শনিবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসন নির্বাচনী এলাকা শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নে নয় নম্বর ওয়ার্ড বিশ্বনাথপুর বাখেরআলি বাজারে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রাজশাহী বিভাগীয় উপ মহাপুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহজাহান ।
শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো.কেরামত আলীর পথসভা শুরুর কিছুক্ষণ আগে এ ঘটনা ঘটে। পরে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকরি বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ বিষয়ে জামায়াত ইসলামীর বিনোদপুর ইউপির সভাপতি রেজাউল করিম জানান, নির্ধারিত দিনে আমাদের প্রধান অতিথি দলীয় প্রার্থী মো.কেরামত আলী’র ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচনী পথসভার শুরুর আগে প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় ধানের শীষের ছবি কেন তুলেছে অভিযোগের ধোঁয়া তুলে।এভাবে এক দু কথা হতে বিএনপি’র ওয়ার্ড সভাপতি মাহিদুর ও সেক্রেটারি মাসিরের নেতৃত্বে লাঠিসোটা হাতে নিয়ে আমাদের নেতাকর্মীকে ধাওয়া করে। এ সময় বেশ কিছু নেতাকর্মী আহত হয়। সমাবেশ স্থলের ডায়েস ও চেয়ার ভাঙচুর করে। এ ঘটনার পরপরই পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। আমরা এই ঘটনা সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি করছি।
এদিকে ওই ইউপির বিএনপি’র সভাপতি মজিবুর রহমান জানান,’জামায়াতের ইউনিয়ন সেক্রেটারি জোবায়ের নির্বাচনী অফিসের সামনে ধানের শীষ প্রতীকের ছবি তুলেন। কেন ছবি তুললেন জানতে চাইলে তিনি পালিয়ে যান। এ সময় তাদের দলের কয়েকজন এসে জানতে চাই কেন তাকে ধাওয়া করা হলো। এই নিয়ে দুই দলের নেতাকর্মীরা বাক বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে, একপর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে। ‘
‘আমরা পাশাপাশি নির্বাচনী অফিস তৈরি করতেও নিষেধ করেছিলাম। তখন তারা শুনেনি। পায়ে পা দিয়ে বিবাদ লাগানো হচ্ছে। এ বিষয় অভিযোগের প্রস্তুতি নিচ্ছি বলেও জানান তিনি।’
এ ঘটনায় শনিবার দুপুরে ছুটে আসেন রাজশাহীর উপ – মহা পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহজাহান। ঘটনাস্থল পরিদর্শন এসে তিনি স্থানীয়দের উদ্দেশ্যে বলেন,’একটা সুন্দর নির্বাচন করতে চাই। আপনারা সবাই এই এলাকার মানুষ ভোটে আগেও যেমন আছেন ভোটের পরেও তেমন থাকবেন। নিজেদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি যেন না হয় সেইদিকে খেয়াল রাখবেন।
তিনি আরো বলেন,’আপনি আমার মাথা ফাটাবেন, আপনার মাথা আরেকজন ফাটাবে আল্টিমেটলি টাকা কিন্তু পাবে ডাক্তার। পাবে অন্যজন; আপনার টাকা কি আপনি অন্যজনকে দিবেন?
তিনি বলেন, আমরা চাই আপনারা নিজেদের মধ্যে একত্রে থাকবেন। একত্রে চলাফেরা করেন। সুন্দর নির্বাচন করেন যেন আগামী নির্বাচন গুলোর জন্য একটা মডেল হয়।
এ সময়, স্থানীয়দের মাঝে গণভোট প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ‘হ্যাঁ’ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালান তিনি । পরিদর্শন কালে তার সাথে ছিলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ,শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. হুমায়ুন কবির সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

