মুজাহিদুল ইসলাম , জবি প্রতিনিধি:
বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বড় ধরণের ট্র্যাজেডির অপেক্ষায় রয়েছে। চলতি মাসের শেষ দিকে হওয়া ঘন ঘন ভূমিকম্প সেই আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এর মূল কারণ হলো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দূর্বল অবকাঠামো এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবন।
২০২১ সালে রাজউক ঢাকার আশেপাশের বহু সরকারি, আধা-সরকারি এবং স্বায়ত্তশাসিত ভবনের উপর জরিপ চালায়। সেখানে তারা মোট ৫৭৯টি ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। এর মধ্যে ৪২টি ভবনকে “অতি ঝুঁকিপূর্ণ” বা ভেঙে ফেলার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়। সেই তালিকায় চারটি ভবন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
২০২৩ সালে রাজউক ওই চারটি ভবন তিন মাসের মধ্যে ভেঙে ফেলার নোটিশ প্রদান করে এবং সেখানে সাত দিনের মধ্যে ভবন খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিশ্ববিদ্যালয় জানায়, তারা কোনো রিপোর্ট পাননি। রাজউকের নির্দেশের তোয়াক্কা না করে চারটি ভবনেই কার্যক্রম চলছে।
ভবনগুলো হলো:অবকাশ ভবন,সমাজবিজ্ঞান অনুষদ ভবন,ভাষা শহীদ রফিক ভবন,প্রশাসনিক ভবন এর বাইরে বিজ্ঞান অনুষদ ভবনেরও বেহাল দশা লক্ষ্য করা যায়।
রফিক ভবনে অবস্থিত বাংলা বিভাগের এক শিক্ষার্থী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন”ভূমিকম্প পূর্ববর্তী সময়ে দেয়ালের ফাটল বন্ধ করতে সিমেন্টের প্রলেপ দিয়ে তার উপর রং করে সংস্কার কাজ চালানো হয়। এখানে প্রতিদিন ক্লাস করি, জীবন হাতে নিয়ে। ভূমিকম্পের পর সবার প্রথম চিন্তা ছিল, এখানে ক্লাস করলে একদিন এই ভবনের নিচে চাপা পড়েই মারা যাব।”
সরাসরি পরিদর্শনে দেখা গেছে, ভবনগুলোতে বিভিন্ন স্থানে ফাটল, বিমের উন্মুক্ত রড এবং ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ার দৃশ্য। এছাড়া কিছুদিন আগে অবকাশ ভবনের প্লাস্টার খসে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।
ভূমিকম্পের পর বিশ্ববিদ্যালয় সবগুলো ভবন পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য বুয়েটের বিশেষজ্ঞসহ ৮ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে ডিসেম্বরের ৩ তারিখের মধ্যে রিপোর্ট প্রদানের অনুরোধ করা হয়েছে।

