লিভারপুলে নিজের অবস্থান নিয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন তারকা ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহ। ক্লাবের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে ক্ষোভ জানিয়ে তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি দেখে তার মনে হচ্ছে সব দায় যেন তার ঘাড়েই পড়ছে।
শনিবার লিডস ইউনাইটেডের বিপক্ষে ৩–৩ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে এক মিনিটের জন্যও মাঠে নামানো হয়নি সালাহকে। পুরো ম্যাচ বেঞ্চে কাটানোর মাধ্যমে টানা তিনটি ম্যাচে শুরুর একাদশের বাইরে থাকলেন মিশরীয় এই স্ট্রাইকার। ম্যাচের পর গণমাধ্যমের সামনে নিজের হতাশা স্পষ্ট করে তুলেন তিনি।
সালাহ বলেন, বহু বছর ধরে ক্লাবের হয়ে সবকিছু উজাড় করে দেওয়া সত্ত্বেও এখন তাকে মাঠের বাইরে বসিয়ে রাখা হচ্ছে, অথচ এর কোনো পরিষ্কার ব্যাখ্যাও তিনি পাচ্ছেন না। তার মতে, ক্লাবের আচরণ তার প্রতি ন্যায্য নয় এবং মনে হচ্ছে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবেই সব ভুলের দায় তার ওপর চাপাতে চাইছে।
গত আট বছরে অ্যানফিল্ডে সালাহের অবদান অসামান্য। তার সময়ে লিভারপুল জিতেছে দুটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা ও একটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। চলতি বছরের এপ্রিলে ক্লাবের সঙ্গে আরও দুই বছরের চুক্তিও নবায়ন করেছেন তিনি। এর আগেই পেয়েছিলেন মৌসুমসেরা খেলোয়াড়ের সম্মান।
তবু সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সালাহর ভবিষ্যৎ নিয়ে অ্যানফিল্ডে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। লিভারপুলও ভালো সময় পার করছে না—শেষ ১০ ম্যাচে জয় পেয়েছে মাত্র দুটিতে। এই বাজে অবস্থার মধ্যেই সালাহর অসন্তোষ দলকে বাড়তি চাপে ফেলেছে।
তৃতীয় ম্যাচেও তাকে শুরুর একাদশে না রাখার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন কোচ আর্নে স্লট। তিনি জানান, বর্তমান দলীয় পরিস্থিতির কথাই ভেবে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।
তবে সালাহর দাবি, কোচের সঙ্গে তার সম্পর্ক এখন আর আগের মতো নেই। গ্রীষ্মে অনেক প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেলেও সেগুলোর কোনো বাস্তব প্রতিফলন তিনি দেখছেন না। টানা তিন ম্যাচ বেঞ্চে থাকায় তিনি নিজেকে প্রতারিত মনে করছেন।
৩৩ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড আরও জানান, যেভাবে পরিস্থিতি এগোচ্ছে তাতে তার মনে হচ্ছে কেউ একজন তাকে ক্লাবে রাখতে আগ্রহী নয়।
এই মাসেই তিনি আফ্রিকান কাপ অব নেশনস খেলতে জাতীয় দলে যোগ দেবেন। সেখান থেকে ফিরে লিভারপুলে নিজের ভবিষ্যৎ কী হবে—তা নিয়েও চরম অনিশ্চয়তার কথা স্বীকার করেছেন তিনি।

