ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোর নিরাপত্তা ও কর্মীদের ওপর হামলার হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে ফের তলব করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় তাকে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের দপ্তরে তলব করা হয়।
নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ ডিসেম্বর রাতে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও রাষ্ট্রদূতের বাসভবনের সামনে উগ্রবাদী গোষ্ঠীর বিক্ষোভ এবং গতকাল সোমবার (২২ ডিসেম্বর) শিলিগুড়িতে বাংলাদেশ ভিসা সেন্টারে ভাঙচুর ও হামলার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এ সময় ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের মিশনগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ভারতীয় হাইকমিশনারের মাধ্যমে নয়াদিল্লির প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
১০ দিনে দ্বিতীয় এবং অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ষষ্ঠবার তলব উল্লেখ্য যে, এ নিয়ে গত ১০ দিনের ব্যবধানে প্রণয় ভার্মাকে দ্বিতীয়বার তলব করা হলো। এর আগে গত ১৪ ডিসেম্বর তাকে তলব করে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীদের ভারতে পালানো রোধ এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যের বিষয়ে কড়া বার্তা দিয়েছিল ঢাকা। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এ পর্যন্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে মোট ছয়বার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হলো।
ভিসা সেবা স্থগিত ও উদ্ভূত পরিস্থিতি নয়াদিল্লি ও শিলিগুড়িতে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ইতোমধ্যে সেখানে বাংলাদেশের কনস্যুলার সেবা ও ভিসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার নয়াদিল্লি ও মুম্বাইয়ে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) বিক্ষোভের ডাক দেওয়ার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন করে সংকটের মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
পাল্টাপাল্টি তলব ও উত্তেজনা ১৭ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকেও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাল্টা তলব করা হয়েছিল। ঢাকা ও দিল্লির এই পাল্টাপাল্টি কূটনৈতিক পদক্ষেপ প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরও ঘনীভূত করেছে।

