সুলতান মাহমুদ, দিনাজপুর:
দিনাজপুরের পুলহাট শিল্পনগরী থেকে খানপুর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান দ্বিতীয় দিনের মত চালিয়েছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ।
দুইদিনে ৫ কিলোমিটারের অধিক অবৈধ স্থাপনা দখলমুক্ত করা হয়েছে। বাকি অবৈধ স্থাপনা সড়ক ও জনপদ বিভাগ নতুন করে তারিখ নির্ধারণ করার পর আবার উচ্ছেদ অভিযান শুরু করবে। তাই আপাতত অবৈধ উচ্ছেদ অভিযানের কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছেন জনপদ ও সড়ক বিভাগ।
আজ সোমবার সকাল থেকেই জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
দিনাজপুরের পুলহাট থেকে খানপুর পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের দুই পাশে বহু বছর ধরে গড়ে ওঠা দোকান, বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কিছু সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা চিহ্নিত করে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়। ইতোমধ্যে শিকদারহাট পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকা অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়েছে।
সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, “দুই দিনের অভিযানে পুলহাট থেকে শিকদারহাট পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। বাকি অংশেও ধাপে ধাপে অভিযান পরিচালনা করা হবে। আমাদের লক্ষ্য—অবৈধ দখলমুক্ত পরিষ্কার ও নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা।
এদিকে জেলা প্রশাসক জানান, “১৯৪২ সালে অধিগ্রহণকৃত এ সড়কের মোট ১২০ ফিট জায়গার মধ্যে বর্তমানে ৮৫ ফিট রাস্তা প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। সেই সীমার মধ্যে থাকা সব অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে দেওয়া হবে। রাস্তা প্রশস্তকরণের পর জনগণের যাতায়াত আরও সহজ হবে।
অভিযান চলাকালে প্রশাসনের উপস্থিতিতে এক্সকাভেটর মেশিন দিয়ে দোকানঘর, টিনশেড, এমনকি পাকা ভবনও ভেঙে ফেলা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ অভিযানের প্রশংসা করলেও, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা দ্রুত পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন।উচ্ছেদে সর্বস্বান্ত ব্যবসায়ীরা
দিনাজপুরের সিকদারহাটে সড়কের পাশে উচ্ছেদ অভিযানে সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসেছেন বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। হঠাৎ উচ্ছেদে অনেকে হারিয়েছেন জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। এলাকাজুড়ে এখন কান্না ও হাহাকার—চোখে জল, মুখে হাহাকার কর্মহীন মানুষের।
সিকদারহাটের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ ও কষ্টের সঙ্গে বলেন, “আমার এই সিকদারহাটে দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল। এখানে চারজন মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা ছিল। অথচ আজ উচ্ছেদ অভিযানে সবকিছু কুড়িয়ে দিয়ে আমাকে সর্বশান্ত করে দিয়েছে। দোকানটি আমি নগদ টাকায় ক্রয় করেছিলাম, অথচ এখন আমি পথে বসেছি। সরকারের কাছে আমি পুনর্বাসনের দাবি জানাচ্ছি।”
একইভাবে হোটেল ব্যবসায়ী মামুনুর রশিদ বলেন, “আমার এই হোটেলটিই ছিল পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। দুই বছর আগে নিজ উদ্যোগে স্থাপনা তৈরি করে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করছিলাম। আজ চোখের সামনেই সেটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এখানে কয়েকজন মানুষেরও কাজের সুযোগ ছিল—এখন তাদের অবস্থাই বা কী হবে? ব্যবসা হারিয়ে এখন আমিও রাস্তায়।”
এছাড়া সিকদারহাটের আরও বহু ব্যবসায়ী, যেমন রফিক জামান এরশাদসহ অনেকে এখন সর্বস্বান্ত। সংবাদকর্মী দেখলেই তারা অসহায়ভাবে নিজের দুঃখের কাহিনী শুনাচ্ছেন। কেউ কেউ জানিয়েছেন, জীবিকার অভাবে পরিবার নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন। চোখে পানি, মুখে হতাশা—উচ্ছেদের পর সিকদারহাট যেন পরিণত হয়েছে এক নিঃশব্দ কান্নার মেলায়।

