শাহরিয়ার কবির, পাইকগাছা প্রতিনিধি:
পাইকগাছা (খুলনা) — উপজেলা ভূমি অফিসে সরকারি নির্ধারিত ফি থাকার পরও দালালচক্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে কাজ করতে হচ্ছে। নামজারি, জমা খারিজ, খতিয়ান সংশোধন ও পর্চা উত্তোলনের ক্ষেত্রে ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকা, কিছু ক্ষেত্রে এক থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত হরকরের অভিযোগ উঠেছে। টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখা, কাগজে অযৌক্তিক ত্রুটি দেখানো বা মাসের পর মাস ঘোরানো এখন নিত্যদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে। দালালরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন এবং কালেকশনের একটি অংশ অফিসের উর্ধ্বতনদের কাছে যায়। সৈয়দ সালাম উল্ল্যাহ নামের এক ব্যক্তি নিজেকে সাবেক মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিয়ে কাজ পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ আদায় করছেন।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, সরাসরি অফিসে গেলে হয়রানি করা হয়। কখনো বলা হয় “এসিল্যান্ড নেই”, কখনো “রিপোর্ট আসেনি”, আর কখনো নতুন আপত্তি তোলা হয়। এই সুযোগে দালালরা “লাইন ঠিক আছে” বলে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
অভিযোগ প্রসঙ্গে সার্ভেয়ার শহিদুল ইসলাম বলেন, “উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অফিসিয়াল বক্তব্য জানানো হবে।”
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বী বলেন, “অফিসে কোনো দালালচক্র নেই। কেউ অননুমোদিতভাবে টাকা আদায় করলে তা বেআইনি। ভুক্তভোগীরা সরাসরি অভিযোগ করলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। আমরা নিয়মিত মনিটর করি যাতে কোনো অনিয়ম না হয়।

