ইসরায়েলের জীবিত সব জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনার শর্ত মেনে ইসরায়েলের জীবিত ২০ জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন। আজ সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টার পর থেকে দুই ধাপে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়। খবর বিবিসির।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) দুই ধাপে জিম্মি মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে হামাস প্রথম ধাপের জিম্মি মুক্তির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, গাজায় সবশেষ ৪৮ জন ইসরায়েলি জিম্মি অবস্থায় ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ২০ জন বেঁচে ছিলেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, মুক্তি পাওয়া সব জিম্মি গাজা থেকে ইসরায়েলের ফিরে এসেছে।
ফিলিস্তিনি বন্দীদের নিয়ে প্রথম বাস গাজায় পৌঁছেছে। জীবিত ২০ ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তির এর এবার ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের কারাগারে বন্দী থাকা কিছু ফিলিস্তিনিকে নিয়ে একটি বাস ইতিমধ্যে গাজায় পৌঁছেছে। মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দীদের বহনকারী আরও কিছু বাস গাজার দিকে যাত্রা করেছে বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা।
আজ সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে গাজা থেকে ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি দিতে শুরু করে হামাস। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, জীবিত সব জিম্মিকে ইতিমধ্যে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বিনিময়ে দুই হাজার ফিলিস্তিনিকে ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হবে। তবে এখনো পর্যন্ত কতজন ফিলিস্তিনি মুক্তি পেয়েছেন, তা জানা যায়নি।
হামাসের ‘নতুন করে অস্ত্রসজ্জিত’ হওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন রয়েছে: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হামাস গাজায় যে ‘নতুন করে অস্ত্রসজ্জিত’ হচ্ছে সেটা যুক্তরাষ্ট্র জানে। তিনি দাবি করেন, গোষ্ঠীটিকে ‘সাময়িক সময়ের জন্য’ সশস্ত্র থাকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
ইসরায়েলে পৌঁছানোর আগে এয়ারফোর্স ওয়ানে এক সাংবাদিক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন, হামাস ‘নতুন করে অস্ত্রসজ্জিত’ হচ্ছে এবং নিজেদের ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে। জবাবে ট্রাম্প বলেন, কয়েক মাসের যুদ্ধের পর গোষ্ঠীটি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘তারা (হামাস) এ বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেছে এবং আমরা তাদের কিছু সময়ের জন্য সশস্ত্র থাকার অনুমোদন দিয়েছি।’ তিনি যুক্তি দেখিয়ে বলেন, ‘আপনাকে বুঝতে হবে, তারা সম্ভবত ৬০ হাজার মানুষ হারিয়েছে। এটি এক বিশাল ক্ষতি।’
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় অন্তত ২০ হাজার শিশুসহ ৬৭ হাজার বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চায়, নিজ নিজ বাড়িঘরে ফিরে আসা গাজায় বাসিন্দারা যেন নিরাপদে পুনর্গঠন কাজ করতে পারেন। তিনি গাজাকে ‘আক্ষরিক অর্থেই ধ্বংসস্তূপ’ বলে উল্লেখ করে বলেন, মানুষ নিজেদের বাড়িঘরে ফিরে আসার সময় ‘অনেক খারাপ ঘটনা ঘটতে পারে’।
হামাসের অস্ত্র ত্যাগের সময়সীমা যুদ্ধবিরতি চুক্তির অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কখন ও কীভাবে তাদের যোদ্ধাদের নিরস্ত্রীকরণ করা হবে, তা নিয়ে আলোচকদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।
বাকি ১৩ জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস: ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম। গাজা থেকে দ্বিতীয় ধাপে ১৩ ইসরায়েলি জিম্মিকে রেডক্রসের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম। তাঁরা বর্তমানে ইসরায়েলের পথে আছেন। বিবিসির এ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় প্রথম ধাপে ৭ জিম্মিকে রেডক্রসের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাঁরা ইতিমধ্যে ইসরায়েলে পৌঁছেছেন। জিম্মি ও নিখোঁজ পরিবারগুলোর সংগঠনের তথ্যমতে, মুক্তি পাওয়া জিম্মিরা হলেন—গালি বারমান, জিভ বারমান, এইটান আব্রাহাম মর, ওমরি মিরান, মাতান আংগ্রেস্ট, আলোন ওহেল, গাই গিলবোয়া-ডালাল।
জেরুজালেমের পথে ট্রাম্প, ভাষণ দেবেন ইসরায়েলি পার্লামেন্টে। তেল আবিবে বিমানবন্দরে অবতরণের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। সেখানে তিনি ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে ভাষণ দেবেন এবং জিম্মিদের কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
এরপর গাজা শান্তি সম্মেলনে যোগ দিতে মিসরের অবকাযাপনকেন্দ্র শারম এল-শেখের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন ট্রাম্প। ওই সম্মেলনে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারসহ প্রায় ২০ জন বিশ্বনেতা উপস্থিত থাকবেন।
জিম্মি মুক্তির মধ্যেই ইসরায়েলে পৌঁছেছেন ট্রাম্প, গাজা থেকে ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির প্রক্রিয়া চলছে। প্রথম ধাপে মুক্তিপ্রাপ্ত সাতজন ইসরায়েলে প্রবেশ করেছেন। এরই মধ্যে ইসরায়েলে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
ট্রাম্পের সরকারি উড়োজাহাজ এয়ার ফোর্স ওয়ান তেল আবিবের উপকণ্ঠে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। এ সময় সেখানে তাঁকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, তাঁর স্ত্রী সারা, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার এবং তার স্ত্রী ও ট্রাম্পের কন্যা ইভাঙ্কা ট্রাম্প।
ইসরায়েলে প্রবেশ করেছেন সাত জিম্মি: সেনাবাহিনী
গাজা থেকে প্রথম ধাপে মুক্তি পাওয়া সাত জিম্মি ইসরায়েলে প্রবেশ করেছেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিবিসির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেনাবাহিনী বলেছে, মুক্তি পাওয়া সাত জিম্মি কিছুক্ষণ আগে ইসরায়েল সীমান্ত অতিক্রম করেছেন। তাঁরা বর্তমানে দক্ষিণ ইসরায়েলের প্রাথমিক অভ্যর্থনা কেন্দ্রে যাচ্ছেন। সেখানে তাঁরা তাদের পরিবারের সঙ্গে মিলিত হবেন।
উড়োজাহাজ থেকে জিম্মিদের মুক্তির দৃশ্য দেখছেন ট্রাম্প, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকারি উড়োজাহাজ এয়ার ফোর্স ওয়ান থেকে টেলিভিশনে জিম্মিদের মুক্তির দৃশ্য দেখছেন। তাঁর প্রেস সচিব ক্যারোলাইন লেভিট এ তথ্য জানিয়েছেন।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এয়ার ফোর্স ওয়ানে করে ওয়াশিংটন থেকে দীর্ঘ ফ্লাইট শেষে শিগগিরই ইসরায়েলে অবতরণ করবেন ট্রাম্প।
ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা, ইসরায়েল ১২ জন ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দিয়ে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফেরত পাঠানোর কথা থাকলেও এখন তাদের নির্বাসিত করা হবে বলা জানানো হচ্ছে। গতকাল রোববার রাতে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বন্দীদের পরিবারের সদস্যদের এই পরিবর্তনের কথা জানানো হয়েছে।
আল–জাজিরার সাংবাদিক নুর ওদে জর্ডান থেকে এই তথ্য জানিয়েছেন।
আল–জাজিরার সাংবাদিক আরও বলেন, যাঁরা তাঁদের সন্তানদের নির্বাসিত করার কথা আগেই জানতে পেরেছিলেন, তাঁরা গতকাল অধিকৃত পশ্চিম তীর ছেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তাঁদের অনুমতি দেয়নি। এই মুহূর্তে সেখানে একটি আবেগঘন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
আল–জাজিরা সাংবাদিক জানান, ইসরায়েল কখন গাজার ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তি দেবে, তা নিয়েও ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
মুক্ত জিম্মিদের ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, হামাসের কাছ থেকে মুক্তি পাওয়া সাতজন ইসরায়েলি জিম্মিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গ্রহণ করেছে। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
জর্ডানের আম্মান থেকে আল-জাজিরা প্রতিবেদক নুর ওদেহ বলেন, জিম্মিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাঁদের অবস্থা মোটামুটি ভালো বলে জানা গেছে। তাঁরা হাঁটতে পারছেন। চিকিৎসা সহায়তার প্রয়োজন হচ্ছে না। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এক সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ খবর নিশ্চিত করেছে।
গাজায় প্রথম ধাপে মুক্তি পাওয়া সাত ইসরায়েলি কারা, গাজায় মুক্তি পাওয়া সাত ইসরায়েলি জিম্মির নাম জানা গেছে। আজ স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে আটক অবশিষ্ট ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি দিতে শুরু করেছে ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস।
সাতজনকে মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে হামাস।
জিম্মি ও নিঁখোজ পরিবারগুলোর সংগঠনের তথ্যমতে, মুক্তি পাওয়া জিম্মিরা হলেন—গালি বারমান, জিভ বারমান, এইটান আব্রাহাম মর, ওমরি মিরান, মাতান আংগ্রেস্ট, আলোন ওহেল, গাই গিলবোয়া-ডালাল।

