মিয়ানমারের রাখাইন সীমান্তে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি ও দেশটির সেনাবাহিনীর ত্রিমুখী সংঘর্ষের কারণে টেকনাফের সীমান্তবর্তী এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভারী অস্ত্রের গোলাবর্ষণ ও বিস্ফোরণের শব্দে স্থানীয়রা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে রবিবার (১১ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় একের পর এক বোমা বিস্ফোরণ ও শত শত রাউন্ড গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এপারের বাড়ি কেঁপে ওঠে এবং ছোড়া গুলি চিংড়ি ঘের ও চাষের জমিতেও পড়ে। নারী ও শিশুরা ভয়ে কাঁদছে, বাসিন্দারা রাত ও দিন বাড়ি থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন।
স্থানীয় আলমগীর হোসেন বলেন, “সারারাত জেগে ছিলাম, একেকটি বিস্ফোরণে বাড়িঘর কেঁপে উঠছিল। নারী ও শিশুরা ভয়ে কাঁদছিল।” আরেক বাসিন্দা মো. ছৈয়দ হোসেন বলেন, “পরিস্থিতি ভয়াবহ, এপারের সাধারণ মানুষ অনিরাপদ মনে করছেন।”
হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু জানান, “গত তিনদিন ধরে সীমান্তে দিনে-রাতে গোলাগুলি ও বোমা বিস্ফোরণ চলছে। ছোড়া গুলি এপারে এসে পড়ছে, মানুষের চিংড়ি ঘরে ও চাষের জমিতে ক্ষতি হচ্ছে।”
রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা আরমান বলেন, “সশস্ত্র গোষ্ঠী ও আরাকান আর্মির মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হচ্ছে। আমি নিরাপদে পালিয়ে আসছি।”
উখিয়া ব্যাটালিয়ন ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, “সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির বিষয়টি আমরা জানি।” টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইনামুল হাফিজ নাদিম জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমও করছে।

