ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের প্রচার কার্যক্রম শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই সারা দেশে বইছে উৎসবের হাওয়া। গত দুদিনেই নির্বাচনি মাঠে তৈরি হয়েছে ব্যাপক গণজোয়ার। রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এখন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জনমনে থাকা শঙ্কার অবসান দেখছেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রথা অনুযায়ী সিলেট থেকে তার প্রচারণা শুরু করেছেন। টানা ১৬ ঘণ্টা সড়কপথে সফর করে সিলেট, মৌলভীবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে নারায়ণগঞ্জে জনসভা করেন তিনি। আজ তিনি চট্টগ্রামে তরুণদের সঙ্গে ‘পলিসি ডায়ালগ’ ও পলোগ্রাউন্ডে জনসভায় অংশ নেবেন।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসনে জনসভার মাধ্যমে প্রচারণা শুরু করে বর্তমানে উত্তরবঙ্গ সফরে রয়েছেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, সিপিবি, এনসিপি ও গণসংহতি আন্দোলনের নেতারাও নিজ নিজ অবস্থান থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেছেন।
নির্বাচনি মাঠে প্রার্থীদের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বাগ্যুদ্ধ। একে অপরকে ইঙ্গিত করে দেওয়া পাল্টা-পাল্টি বক্তব্যকে বিশ্লেষকরা রাজনৈতিক অলঙ্কার হিসেবে দেখছেন। তবে তারেক রহমানের ‘শিরক’ সংক্রান্ত মন্তব্য এবং জামায়াত নেতার পাল্টা জবাব রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা, এই বাদানুবাদ যেন কেবল মুখেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং কোনোভাবেই যেন সহিংসতায় রূপ না নেয়।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দলীয় প্রতীকের পক্ষে ভোট প্রার্থনায় দলগুলো যতটা সক্রিয়, ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নে গণভোটের প্রচারণায় ততটাই নিস্পৃহ। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গণভোটের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর এই নীরবতা তরুণ ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে প্রার্থীরা কোনো প্রকার পোস্টার ব্যবহার করতে পারছেন না। এছাড়া জনসভার ২৪ ঘণ্টা আগে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে।
বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ জানান, প্রচার কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে নির্বাচন নিয়ে সব সংশয় কেটে গেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তারেক ফজল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানও বর্তমান নির্বাচনি পরিবেশকে ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক বলে অভিহিত করেছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন কমিশন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বজায় রাখতে দৃঢ় ভূমিকা পালন করবে।

