যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের টিকিটের হালনাগাদকৃত দাম প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে ফাইনালের টিকিটের দাম অতিমাত্রায় বেশি হওয়ায় ফুটবল সমর্থকরা ফিফাকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে সমালোচনা করেছেন।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা বিভিন্ন দেশের জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে মোট টিকিটের ৮ শতাংশ বরাদ্দ দেয়। এই বরাদ্দ মূলত তাদের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সমর্থকদের কাছে টিকিট বিক্রি নিশ্চিত করার জন্য।
জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক প্রকাশিত তালিকায় দেখা গেছে, গ্রুপ পর্বের ম্যাচের টিকিটের দাম ১৮০ (বাংলাদেশি মুদ্রায় ২১,৯৫৫ টাকা) থেকে ৭০০ ডলারের (৮৫,৩৮৪ টাকা) মধ্যে। ফাইনালের জন্য সবচেয়ে সস্তা টিকিটের দাম ৪,১৮৫ ডলার (প্রায় ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা) এবং সবচেয়ে দামি টিকিটের দাম ৮,৬৮০ ডলার (প্রায় ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৭৬৪ টাকা)।
ফুটবল সমর্থকগোষ্ঠী ‘ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ’ (এফএসই) ফিফার ‘অত্যধিক দাম’ নীতি দেখে হতবাক হয়েছে। তারা টিকিট বিক্রি ‘তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ’ করার আহ্বান জানিয়েছে। ইংল্যান্ডের ফুটবল সাপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনও মন্তব্য করেছে, এই অত্যধিক দাম সমর্থকদের ‘মুখে চড় মারা’র সমান। ফিফা এ অভিযোগের বিষয়ে এখনও মন্তব্য করেনি।
বিবিসি স্পোর্ট জানিয়েছে, ফাইনালের টিকিট তিন স্তরে পাওয়া যাবে—সাপোর্টার ভ্যালু টায়ার: ৪,১৮৫ ডলার (৫ লাখ ১০ হাজার টাকা), সাপোর্টার স্ট্যান্ডার্ড টায়ার: ৫,৫৬০ ডলার (৬ লাখ ৭৮ হাজার টাকা), সাপোর্টার প্রিমিয়ার টায়ার: ৮,৬৮০ ডলার (১০ লাখ ৫৮ হাজার টাকা)।
এপি জানায়, গ্রুপ পর্বের টিকিটের বর্তমান দাম ফিফার আগে দেওয়া ৬০ ডলারের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে মেলে না। সাত বছর আগে বিশ্বকাপের বিড করার সময় যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল কর্তাদের লক্ষ্য ছিল, টুর্নামেন্টের শুরুতে কম দামের হাজারো টিকিট দেওয়া। তবে এখন সেই ভাবনা মিলছে না।
ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ তাদের বিবৃতিতে বলেছে, ‘বিশ্বকাপের ঐতিহ্যের প্রতি এটি বিরাট বিশ্বাসঘাতকতা। সমর্থকদের অবদানকে পাত্তা দেওয়া হয়নি।’
ফিফা গত সেপ্টেম্বর জানিয়েছিল, তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত টিকিটের দাম গ্রুপ পর্বের জন্য ৬০ ডলার থেকে ফাইনালের জন্য ৬,৭৩০ ডলার পর্যন্ত হবে। তবে প্রথমবার ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ প্রয়োগের কারণে এই দাম পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।
সমর্থকগোষ্ঠী এফএসই জাতীয় অ্যাসোসিয়েশনগুলোর মাধ্যমে টিকিট বিক্রি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত এমন একটি সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না যা বিশ্বকাপের ঐতিহ্য, সার্বজনীনতা এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্বকে সম্মান করে।’

