গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি :
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা রামগোপালপুর ইউনিয়নে দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকার কয়েকজন সম্মানিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। বিবাদীপক্ষের দাবি, প্রতিপক্ষ আবু তাহের পরিকল্পিতভাবে ঘটনা সাজিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করে তাদের হয়রানি করছেন।
রবিবার দুপুরে সরজমিনে গেলে স্থানীয় সূত্র ও বিবাদীপক্ষ জানায়, ধুরুয়া একই গ্রামের আবু তাহেরের সঙ্গে অভিযুক্তদের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য গ্রাম্য সালিশ ও দরবার একাধিকবার বসানো হলেও বাদীপক্ষ কোনো সমাধান মেনে নেয়নি। বরং বিরোধকে পুঁজি করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে বলে অভিযোগ।
বিবাদীপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী,২৫ অক্টোবর ঘটনার দিন দুপুরে কোনো হামলা, লুটপাট বা অস্ত্রসজ্জিত আক্রমণের ঘটনা ঘটেনি। শুধুমাত্র উভয় পক্ষের মধ্যে সামান্য কথা কাটাকাটি হয়েছিল। অভিযোগে যে বিপুল পরিমাণ গবাদিপশু, বাঁশ ও মালামাল লুটের কথা বলা হয়েছে—তার কোনো বাস্তব প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় একাধিক গণ্যমান্য ব্যক্তি জানান, ভর দুপুরে এভাবে একের পর এক গরু, খাদ্য ও বাঁশ কেটে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা বাস্তবসম্মত নয়। তারা আরও জানান, সাময়িকভাবে ৩টি গরু নিয়ে যাওয়া হলেও পরে গৌরীপুর থানা থেকে পুলিশ এসে তা বাদীকে ফেরত দেয়। এর বাইরে অভিযোগে উল্লেখিত গরু বা সম্পদের অস্তিত্বই ছিল না।
সরজমিন তদন্তে যুক্ত থাকা ব্যক্তিদের দাবি, ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে কোনো ভাঙচুর বা বড় ধরনের সহিংসতার আলামত পাওয়া যায়নি। বরং বাদী মামলার মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে সামাজিকভাবে হেয় করা ও আইনি হয়রানির উদ্দেশ্যেই অতিরঞ্জিত অভিযোগ এনেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা সমাজে সম্মান নিয়ে বসবাস করি। কোনোদিন এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। জমি বিরোধের কারণে আমাদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।”
এলাকার প্রবীণ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও মনে করেন, এ মামলা প্রকৃত অপরাধ নয় বরং দীর্ঘদিনের জমি বিরোধের ফল। তারা ন্যায়বিচারের স্বার্থে সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
বিবাদীপক্ষের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্ত হলে মিথ্যা মামলার আসল উদ্দেশ্য প্রকাশ পাবে এবং নির্দোষ ব্যক্তিরা আইনি হয়রানি থেকে রক্ষা পাবে। বাদী আবু তাহেরর ভাষ্য মতে বুঝা গেছে অভিযুক্তরা এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়া ঘটনা ঘটালেও তা কেউ ভয়ে স্বীকার করবে না।
এ বিষয়ে গৌরীপুর থানা সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

