ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফশিল ঘোষণা করেছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন নির্বাচনের বিস্তারিত তফশিল ঘোষণা করেন।
এরপরই কমিশন সম্ভাব্য প্রার্থীদের সকল নির্বাচনী প্রচার সামগ্রী অপসারণের নির্দেশনা জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, প্রার্থী বা সংশ্লিষ্টরা যেসব ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড, দেয়াল লিখন, গেট, তোরণ, ঘের, প্যান্ডেল বা আলোকসজ্জা টানিয়েছেন, তা তফশিল ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের নিজ খরচে সরাতে হবে।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার উপ-সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন এ সংক্রান্ত নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবকে চিঠি দেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
ইসি স্পষ্ট করেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপযুক্ত প্রচার সামগ্রী অপসারণে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, এসব প্রতিষ্ঠানকে তফশিল ঘোষণার পরের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কার্যক্রম সম্পন্ন করার তদারকি করতে বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি গত দুই বছরে পরিবর্তিত হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। এরপর ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ভোটের তফশিল ঘোষণা করেন। পরে একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের সিদ্ধান্ত আসে।
এবারের নির্বাচন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও ইসির অধীনে প্রথম আয়োজন হওয়ায় নির্বাচন পরিচালনা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করছে পর্যবেক্ষকরা। একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে জটিল ও নজরদারির দাবি রাখছে।

