ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ঢাকা উত্তরের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামালের কথোপকথনের সত্যতা মিলেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
ট্রাইব্যুনাল জানায়, তদন্ত ও কারিগরি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে আলোচিত এই কথোপকথনকে প্রামাণ্য হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে। ঘটনাটি মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে বলেও আদালত জানায়।
এই মামলার প্রধান আসামি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অন্য দুই আসামি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। তিন আসামির মধ্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান বর্তমানে পলাতক এবং তারা ভারতে অবস্থান করছেন বলে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে অবহিত করেছে।
মামলাটি ২০২৪ সালের ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ, রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও সংগঠিত হামলার অভিযোগে দায়ের করা হয়। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, আলোচিত কথোপকথনে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা, নির্দেশনা এবং দায়বদ্ধতার বিষয়টি স্পষ্ট প্রতীয়মান।
ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানায়, মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং পলাতক আসামিদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য এ মামলাটি ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

