বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ (১২ নভেম্বর) একটি আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার ওপর বিস্তারিত মন্তব্য করেছেন। তিনি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়া ও ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, অনাবশ্যকভাবে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ বা অচল করা থেকে বিরত থাকতে হবে — “অযথা পরিস্থিতি ঘোলাটে করবেন না।”
তারেক বলেন, ৭ নভেম্বর ১৯৭৫ ছিল দেশকে শত্রু ও মিত্র চিহ্নিত করার দিন—সেই দিনের ঘটনার পর প্রজাতন্ত্রকে স্বৈরাচারী কুশীলবদের পুনরাবির্ভাব ঠেকাতে জনবিপ্লবের মাধ্যমে তা প্রতিহত করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পরে কিছু অপশক্তি মহাজোটের আড়ালে ফিরে এসেছে এবং দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চালিয়েছে। তাই ভবিষ্যতে জাতীয় ঐক্য বজায় রেখে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠাই সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হওয়া উচিত।
অর্থ-জীবিকা ও সামাজিক নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ তুলে ধরে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে জনগণের নিত্যদৈনন্দিন সমস্যাগুলো—কৃষক, শ্রমিক, নারী কর্মসংস্থান, শিক্ষা, সড়ক নিরাপত্তা—ই রাজনৈতিক অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত, নয়তো গণভোট বা অন্য যেকোনো উদ্যোগের আগে সাধারণ মানুষের খাবার, চাকরি ও নিরাপত্তার দিকটি নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি উদাহরণ হিসেবে আলু ও পেঁয়াজ উৎপাদন ও সংরক্ষণের সমস্যা, গার্মেন্টস খাতে কর্মসংস্থানের সংকট এবং উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার খারাপ ফলাফল তুলে ধরেন।
তারেক আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুর্বলতা কেউ সুযোগ বুঝে ভোট প্রক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি করে স্বাধীন নির্বাচনের পথ বন্ধ করতে পারে। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে হুমকি-ধামকি দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অস্থিতিশীল করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান এবং সবাইকে ফেব্রুয়ারিতে প্রত্যাশিত নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেন।
সমাপনীতে তিনি জাতীয় ঐক্য, গণতান্ত্রিক মানসিকতা ও দেশপ্রেমের উপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন—বিএনপি ঐক্য রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি অনুরোধ করেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গীরা অযথা পরিস্থিতি জটিল করবেন না এবং বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে ঐক্য বজায় রাখুন।

