গণভোট কখন এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ–২০২৫’ বাস্তবায়নের সুপারিশ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতভেদ নিরসনে নিজেদের মধ্যে আলোচনার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার যে এক সপ্তাহের সময় বেঁধে দিয়েছিল, সেটির সময়সীমা শেষ হচ্ছে আগামীকাল সোমবার। তবে এই সময়ের মধ্যে দলগুলো কোনো বৈঠক বা সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। বরং, বিএনপি-জামায়াত এবং তাদের রাজনৈতিক মিত্রদের মধ্যে মতপার্থক্য আরও তীব্র হয়েছে।
গত সোমবার উপদেষ্টা পরিষদের ‘জরুরি বৈঠক’ শেষে সরকার জানায়, দলগুলো এক সপ্তাহের মধ্যে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ঐক্যবদ্ধ দিকনির্দেশনা দেবে। অন্যথায়, সরকার নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেবে। এখন রাজনৈতিক দলগুলো তাকিয়ে আছে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দিকে—তিনি কি দলগুলোকে আলোচনায় ডাকবেন, নাকি সরকার সরাসরি সিদ্ধান্ত দেবে।
কী নিয়ে মতভেদ?
ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে মূলত পাঁচটি বিষয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে—
১. গণভোটের সময়: বিএনপি বলছে সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট হতে হবে। জামায়াত বলছে নির্বাচনের আগেই।
২. বাস্তবায়ন আদেশ কে জারি করবে: জামায়াত ও এনসিপি মনে করে প্রধান উপদেষ্টা আদেশ দেবেন। বিএনপির অবস্থান—এ ক্ষমতা কেবল রাষ্ট্রপতির।
৩. সংবিধান সংস্কার পরিষদের সময়সীমা: ২৭০ দিনের মধ্যে সংশোধন না হলে স্বয়ংক্রিয় সংশোধন—এ প্রস্তাবে আপত্তি বিএনপির।
৪. **স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’-এ থাকা ভিন্নমত (‘নোট অব ডিসেন্ট’) বাদ দেওয়া নিয়ে আপত্তি রয়েছে বিএনপি-মিত্র দলের।
৫. উচ্চকক্ষ গঠন: কমিশন ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষের সুপারিশ করেছে; বিএনপি বলছে আসনের অনুপাতে হতে হবে।
সরকারের সম্ভাব্য মধ্যপন্থা:
সরকার সংশ্লিষ্ট পক্ষের মত বিবেচনায় সংসদ নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজন, এবং ২৭০ দিনের স্বয়ংক্রিয় সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়া বাদ দেওয়ার দিকে ঝুঁকছে বলে সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া আদেশ জারি নিয়ে রাষ্ট্রপতি না প্রধান উপদেষ্টা—এটি এখনও পর্যালোচনায় রয়েছে।

