ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শতবর্ষী মূল ভবনটি গুরুতর ঝুঁকিতে রয়েছে—এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে গণপূর্ত বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিস। ১২০ বছর বয়সী এই ভবনটি অনেক আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক ধারাবাহিক ভূমিকম্পের পর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ভবনটি পরিদর্শন করে একই মূল্যায়ন পুনর্ব্যক্ত করেছে।
রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের নিচতলা থেকে তিনতলা পর্যন্ত বিভিন্ন ওয়ার্ড, করিডোর ও অপারেশন থিয়েটারের বহু স্থানে আস্তর খসে পড়েছে। কোথাও কোথাও স্যাঁতসেঁতে অবস্থা তৈরি হয়েছে। চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা জানান—ভূমিকম্প ছাড়াই ভবনটি যে কোনো সময় ধসে পড়তে পারে।
ঢামেকের মূল ভবনে রয়েছে ২ হাজার বেড, পাশাপাশি বাহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগসহ ৪০টি অপারেশন থিয়েটার ও বৃহৎ আইসিইউ ইউনিট। প্রতিদিন যেখানে প্রায় চার হাজারের বেশি রোগী ভর্তি অবস্থায় থাকে এবং পাঁচ হাজার রোগী বহির্বিভাগে আসে। দেশের সর্ববৃহৎ এই হাসপাতালে ধনী-গরিব সবাই চিকিৎসা নিতে আসে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, ৫০ বছরের বেশি পুরোনো ভবনই সাধারণত ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়; ঢামেকের মূল ভবনটি তার দ্বিগুণেরও বেশি পুরোনো।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ৪ হাজার বেডের নতুন বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে সম্পূর্ণ কার্যক্রমে রূপ নেবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, পুরাতন মেডিক্যাল কলেজগুলোর একাডেমিক ভবন ও হোস্টেলগুলোও ঝুঁকিপূর্ণ। প্রথম পর্যায়ে ৯ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য নতুন হোস্টেল নির্মাণ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
ঢাকার বাইরে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বহু হাসপাতালও একইভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে—যেখানে দ্রুত সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ প্রয়োজন।

