ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে সম্পূর্ণভাবে ‘সিল’ হয়ে পড়েছে। গাজার প্রধান সড়ক ও শহরের প্রবেশপথ বন্ধ করে দিয়েছে ট্যাঙ্ক ও সৈন্যরা। শহর থেকে লোকজন বের হতে পারলেও ফিরে আসতে দেওয়া হচ্ছে না, এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
লাইভ প্রতিবেদনে আল জাজিরা জানিয়েছে, শহরের দক্ষিণাঞ্চলে রাস্তায় বালির বাধা তৈরি করে ইসরায়েলি সেনারা অবস্থান নিয়েছে। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো হামাসের কার্যক্রম বিচ্ছিন্ন করা এবং পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযানের জন্য শহরকে কেটে ফেলা।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যান্ডি কাটজ বলেন, “এটি গাজার বাসিন্দাদের জন্য শেষ সুযোগ—দক্ষিণে সরে গিয়ে হামাসের সৈন্যদের বিচ্ছিন্ন রাখা।” তিনি উল্লেখ করেন, যারা বের হবেন তাদের সেনারা যাচাই-বাছাই করবে।
তবে এই ঘটনার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ২০ দফা প্রস্তাব সম্পর্কিত আলোচনাও চলছে। হোয়াইট হাউসে গত মঙ্গলবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রস্তাব প্রকাশ করেন। এতে বলা হয়েছে, গাজায় একটি অস্থায়ী টেকনোক্র্যাট সরকার গঠন হবে এবং গাজাকে ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে না। পাশাপাশি যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে দুই পক্ষের জন্য শান্তি প্রক্রিয়া শুরু হবে।
প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে—যদি উভয় পক্ষই সম্মত হন, তাহলে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ, জীবিত ও মৃত বন্দীদের মুক্তি, গাজায় পুনর্নির্মাণ কাজ, ইসরায়েলের সৈন্যদের প্রত্যাহার ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ। এছাড়া হামাসের শান্তিপ্রিয় সদস্যরা সাধারণ ক্ষমা পাবেন এবং অন্য দেশগুলোতে নিরাপদে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
এই পরিস্থিতি গাজার মানবিক সংকটকে আরও গভীর করে তুলেছে, যেখানে খাদ্য ও চিকিৎসা সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়েছে। যুদ্ধবিরতির এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হবে কি না—এটাই এখন বিশ্বের নজরের কেন্দ্রবিন্দু।

