ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
বাঙালি মানে ভোজন রসিক। তবে ঋতুভেদে ভিন্ন ভিন্ন খাবারের প্রচলন বাঙালির ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে আছে। অঞ্চলভেদে সুস্বাদু খাবারের প্রচলন তো সেই আদিকাল থেকে। শুধুমাত্র খাবারের ভিন্নতা ও স্বাদের দিক বিবেচনা করে পরিচিতিও পাচ্ছে বিভিন্ন এলাকা। এখন চলছে শীতকাল।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় জেঁকে বসেছে শীত। আর শীতের তীব্রতা যেন দিন দিন বেড়েই চলছে। এই শীতের মধ্যে সর্বত্র হাট বাজারে মানুষের কাছে হাঁসের চাহিদা তুলনামূলকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। শহর থেকে গ্রামাঞ্চলে হাঁসের বাজার এখন চাঙা। হাঁসের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় দামও কিছুটা বেড়েছে। স্থানীয় বাজারে যেখানে আকারভেদে এক একটি হাঁস ৩ শ টাকা থেকে ৪ শ টাকায় বিক্রি করছে। সেখানে বিক্রি করছে ৫শ থেকে ৬শ কাকায়।
জনশ্রুতি রয়েছে ছোট বড় সবাই শীতে হাঁস খেতে বেশি পছন্দ করেন। হাঁসের গায়ে অতিরিক্ত চর্বি জমে ফলে স্বাদ ও পুষ্টিমান বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই শীতের সময় যেকোনো আনন্দ-উৎসবে অতিথিদের আপ্যায়নে খাদ্য তালিকায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে হাঁসের মাংস। আর হাঁসের মাংস না থাকলে যেন জমে উঠে না কোনো আয়োজন। যার জন্য অনেক সময়ই দিন-ক্ষণ ঠিক করে চলে হাঁস পার্টিও। কেউ রুটি দিয়ে আবার কেউ ভাতের সঙ্গে খাচ্ছেন হাঁসের মাংস। শীতে হাঁস খাওয়া যেন এই এলাকার মানুষের কাছে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। আর শীতকে ঘিরে অনেকে আবার মৌসুমি হাঁস ব্যবসা শুরু করেছেন।
এদিকে পৌর শহরের সড়ক বাজার দিয়ে দেখা যায়, দেশিয়সহ নানা জাতের হাঁস নিয়ে বসে আসেন বিক্রেতারা। অন্য যে কোন সময়ের চাইতে এখন হাঁসের দাম কিছু বেশী রয়েছে বলে ক্রেতারা জানায়।
হাঁস বিক্রেতা মো: বাছির মিয়া বলেন, শীত আসায় হাঁসের চাহিদা বেড়েছে। তবে গত কয়েক দিন ধরে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা আরো বেড়ে গেছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে হাঁস সংগ্রহ করা হয়। দৈনিক ৩০- ৪০টি দেশি ও ফার্মের হাঁস বিক্রি হয়। এর মধ্যে দেশি হাঁস বিক্রি হচ্ছে বেশী। দেশিয় একটি হাঁস আকারবেধে ৫০০-৬০০ টাকা ও ফার্মের ৪০০-৫০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
হাঁস বিক্রেতা মো: রাকিব মিয়া বলেন, আমি বেশীভাগ সময় বাজারে মুরগি বিক্রি করে থাকি। কিন্তু এখন শীত আসার আগে মুরগি বিক্রি না করে হাঁস বিক্রি করছি। কারণ শীত আসায় হাঁসের চাহিদা রয়েছে বেশ। বিক্রিতে ভালো টাকা আয় হয়।
হাঁস কিনতে আসা পৌর শহরের রাধানগর এলাকার মো: মুর্শেদ মিয়া বলেন, আমার মেয়ে তার জামাই ও ছেলে মেয়েকে নিয়ে বেড়াতে এসেছে। জামাই হাঁসের মাংস পছন্দ করায় একজোড়া দেশিয় হাঁস ১১শ টাকায় কেনা হয়েছে। শীত আসায় হাঁসের দাম বেড়েছে। এই এক জোড়া হাঁস অন্য সময় ৮শ টাকায় কেনা যেতো।
মো: ফরিদ উদ্দিন বলেন, শীতে হাঁসের মাংস খেতে পরিবারের সবাই খুবই পছন্দ করে। কারণ শীতে হাঁসের মাংসের অন্য রকম স্বাদ পাওয়া যায়। তাই বাজার থেকে একটি দেশিয় হাঁস ৫শ ৫০ টাকায় কেনা হয়েছে। অন্য সময় এই হাঁস ৪শ টাকায় কেনা যেতো।

