ইন্দোনেশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সুমাত্রা দ্বীপে চলমান বন্যা ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১,০০৩ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) দেশটির উদ্ধারকর্মীরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া ২১৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে প্রায় ২,৭০০ জন আহত হয়েছেন। প্রাথমিক অনুমানে মৃতের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
গত দুই সপ্তাহ ধরে সুমাত্রার বিভিন্ন এলাকায় টানা ভারী বৃষ্টি এবং বন্যার কারণে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কাদামাটি ধসে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। দুর্যোগকবলিত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চললেও অব্যাহত বৃষ্টি এবং দুর্গম ভূগোলের কারণে তা জটিল হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন উজাড় এবং খনির জন্য বন উজাড় করার কারণে প্রাকৃতিক ‘সুরক্ষামূলক আবরণ’ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা ভূমিধস এবং বন্যার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
জাকার্তা পোস্ট জানিয়েছে, ২০২৪ সালে ইন্দোনেশিয়ায় বন উজাড়ের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই বছর প্রায় ১,৭৫,৪০০ হেক্টর বনভূমি ধ্বংস হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫৪,৩০০ হেক্টর বেশি।
নুসানতারা অ্যাটলাসের প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড গ্যাভো জানিয়েছেন, ২০০১ সাল থেকে সুমাত্রায় মোট ৪৪ লাখ হেক্টর বনভূমি ধ্বংস হয়েছে, যা সুইজারল্যান্ডের চেয়েও বড় এলাকা।
সরকার সম্প্রতি জানিয়েছে, সুমাত্রার বন্যাকবলিত এলাকায় বন ধ্বংসের অভিযোগে বিভিন্ন কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো, বিশেষ করে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া এবং পশ্চিমে শ্রীলঙ্কা, চরম আবহাওয়ার কবলে পড়েছে। সেখানে কয়েকদিনে শত শত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

