এম.শাহীন আল আমীন, জামালপুর:
পৌষ মাসের শুরুতেই জামালপুরে তীব্র শীত, ভারি বিষাক্ত কুয়াশা ও শৈত্য প্রবাহের প্রভাব পড়েছে। দীর্ঘ সময় বৈরি আবহাওয়া বিদ্যমান থাকায় চলতি রবি মৌসুমে লক্ষাধিক হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে বাজারে হুহু করে বাড়ছে শীতকালিন সবজীর দাম। বীজতলা রক্ষা করতে না পারলে চারা সংকটের কারণে বোরো মৌসুমেও এর শক্ত প্রভাব পড়তে পারে। একই কারণে শীতে কাপছে জামালপুরের প্রায় ২৫ লাখ মানুষ।
জানা যায়, জামালপুর জেলার ৭টি উপজেলায় মোট আবাদ যোগ্য জমির পরিমান ১লাখ ১৯ হাজার ৬৫০ হেক্টর। এর মধ্যে চাষাবাদ হয়ে থাকে ১লাখ ১৯ হাজার ৫৮০ হেক্টর জমি।
চলতি মৌসুমে জামালপুর জেলার ৭টি উপজেলায় বোরো মৌসুমের জন্য ৫ হাজার ৬৯১ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। শীতকালিন বিভিন্ন সবজি চাষ করা হয়েছে ১৬ হাজার ৮১২ হেক্টর, আলু চাষ হয়েছে ৪ হাজার ৫৮৫ হেক্টর, পিয়াজ চাষ করা হয়েছে ১হাজার ৮১৩ হেক্টর,মিষ্টি আলু চাষ হয়েছে ১ হাজার ১৪৩ হেক্টর, চিনা বাদাম চাষ হয়েছে ৯০২ হেক্টর ও সরিষা চাষ করা হয়েছে ৪০ হাজার ৯৮২ হেক্টর, গম চাষ হয়েছে ২ হাজার ২০০ হেক্টর, মরিচ চাষ হয়েছে ৭ হাজার ৩৫৫ হেক্টর ও ভুট্টা চাষ হয়েছে ২৬ হাজার ৫০ হেক্টর।
এ ছাড়াও বিভিন্ন জাতের ডাল, রসুন ধনিয়া ও কালোজিরাসহ জেলায় অন্যান্য ফসল মিলিয়ে প্রায় ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে চলতি মৌসুমে বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ করা হয়েছে।
তীব্র শীত, ভারি কুয়াশা ও শৈত্য প্রবাহের দাপটে রবি মৌসুমে চাষাবাদকৃত প্রতিটি ফসল বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অতিরিক্ত ঠান্ডা জনিত ও বিষাক্ত কুয়াশায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে আসছে। ফসলের গাছ গুলো ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে বিবর্ণ ধারণ করছে। থেমে গেছে বর্ধণ ক্রিয়া। ফসলের ফুল ও ফল পচেঁ যাচ্ছে। এ অবস্থা বিদ্যমান থাকার কারণে বর্তমানে শীত কালিন সবজির ভরা মৌসুমেও দাম মাত্রারিক্তভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান অবস্থা চলমান থাকলে আগামী বোরো মৌসুমেও এর প্রভাব পড়বে। কারণ বীজতলা ব্যাপক হারে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আসছে। এর বিকল্প পথ বের করা না হলে আগামী বোরো মৌসুমে ইরি-বোরো ধানের চাষ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বা অন্যান্য বছরের তুলনায় কম হবে। জাতীয় খাদ্য যোগানেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
আবহাওয়া অফিসের দেয় তথ্য অনুযায়ি বর্তমানে জামালপুর জেলায় ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্র বিরাজ করছে। আগামী ১৪ দিনের সর্ব শেষ দিনে এই তাপমাত্রা ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস হতে পারে । দীর্ঘ সময় এর তাপমাত্রা চলমান থাকলে কৃষকরা আরও ক্ষতি গ্রস্ত হবে। ফসলের ফলন আরও কমে যাবে। বিশেষ করে সরিষা, ভুট্টা, আলু ও মরিচ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে।
অন্য দিকে তীব্র শীতের কারণে জামালপুর জেলার প্রায় ২৫ লাখ মানুষ চরম কষ্টে রয়েছেন। শীতের হামলায় অনেক মানুষ ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়োবৃদ্ধ লোকজন।
এব্যাপারে জামালপুর কুষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আলম শরীফ খান জানান, বৈরি আবহাওয়ার কারণে কৃষকদের ফসল নষ্ট হয়ে আসছে। ফলনও কমে যাছে। নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে ফসল গাছ। তাই সার্বিক বিবেচনা করে প্রতিটি ফসলের জন্য কৃষকদের আলাদা আলাদাভাবে পরামর্শ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার প্রচারনা অব্যাহত রাখা হয়েছে। পরামর্শ অনুযায়ি কৃষকরা ব্যবস্থা নিলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান অনেকাংশে কমে যাবে এবং প্রতিকুল পরিবেশ থেকে ফসল রক্ষা করা সহজ হবে।

