বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন, জনপ্রিয় নাম সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফৈরদৌস ইবনে হকের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আদালত সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর করা রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে এই নির্দেশনা দেন।
আদেশে আদালত বলেন, সালমান শাহর বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরীর অভিযোগপত্র এবং ঘটনায় জড়িত রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি একত্রে পর্যালোচনা করে এটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রমনা মডেল থানা পুলিশকে।
আইনজীবী আবিদ হাসান জানান, সালমান শাহর মৃত্যুর পর ১৯৯৬ সালে তার বাবা রমনা থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেছিলেন। পরের বছর তিনি সেটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করলেও আদালত তা গ্রহণ করেনি। পরবর্তীতে রিজভী ওরফে ফরহাদ নামে এক আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বিস্তারিতভাবে হত্যার ঘটনা বর্ণনা করলেও মামলাটি থমকে যায়।
পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই) মামলাটির তদন্ত করে ‘আত্মহত্যা’ হিসেবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে, যা আদালত ২০২১ সালে গ্রহণ করেন। তবে আজ আদালত সেই প্রতিবেদন রদ করে নতুনভাবে হত্যা মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৫ বছর বয়সে মারা যান সালমান শাহ। তার মৃত্যু নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্কের ঝড় ওঠে। প্রাথমিকভাবে এটি ‘আত্মহত্যা’ বলে দাবি করা হলেও তার পরিবার শুরু থেকেই হত্যার অভিযোগ করে আসছিল। ১৯৯৭ সালে সালমানের বাবা আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তী সময়ে সিআইডি, বিচার বিভাগীয় তদন্ত, এবং পিবিআইসহ বিভিন্ন সংস্থা এ মামলা তদন্ত করলেও কেউ হত্যার প্রমাণ দিতে পারেনি। অবশেষে বাদীপক্ষের রিভিশন আবেদনের ভিত্তিতে আদালত মামলাটিকে নতুন করে হত্যা মামলা হিসেবে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিলেন।
সালমান শাহর প্রকৃত নাম শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন। তিনি জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবনূরের সঙ্গে ১৩টি সুপারহিট সিনেমায় অভিনয় করেন, যা বাংলা চলচ্চিত্রে অন্যতম জনপ্রিয় জুটি হিসেবে পরিচিত। তার অভিনীত শেষ চলচ্চিত্র ছিল ‘বুকের ভেতর আগুন’।

