পাকিস্তানে একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের অন্তত ১৫ জন নিহত ও ৮ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশুরাও রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) ভোরে দেশটির খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সোয়াত জেলাতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। সোয়াত মোটরওয়ের টানেল নম্বর ৩-এর কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ট্রাক উল্টে গেলে ঘটনাস্থলেই বহু প্রাণহানি ঘটে।
দেশটির জরুরি উদ্ধার সংস্থা রেসকিউ সার্ভিস ১১২২ জানায়, দুর্ঘটনায় নিহত সবাই একই পরিবারের সদস্য। তারা সোয়াতের বাহরাইন তহসিলের গাবরাল এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং পরিবারের সবাই মিলে পাঞ্জাবের উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন। পথে সোয়াত মোটরওয়েতে পৌঁছে ট্রাক উল্টে গেলে ঘটনাস্থলেই বহুজন প্রাণ হারান।
রেসকিউ ১১২২-এর মুখপাত্র শাফিকা গুল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘দুর্ঘটনায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে হাসপাতালের চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন। আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, তাদের সোয়াতে স্থানান্তর করা হয়েছে।’
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উদ্ধারকর্মী ও মোটরওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। আহতদের প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে গুরুতরদের বাটখেলা জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পাকিস্তানের মহাসড়কগুলোতে দুর্ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বেপরোয়া গতি, ক্লান্ত চালক, যানবাহনের অনিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, দুর্বল সড়ক অবস্থা ও ট্রাফিক আইন প্রয়োগের অভাব এর জন্যই এমন দুর্ঘটনা বাড়ছে।
এর আগে গত মাসেও খাইবার পাখতুনখাওয়ার দেরা ইসমাইল খান এলাকায় ব্রেকফেল হয়ে একটি ট্রাক দুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত ও ৩ জন আহত হন। এছাড়া গত ১১ সেপ্টেম্বর মানসেহরায় একটি জিপ খাদে পড়ে ২ নারী নিহত ও ৪ জন আহত হন। তার দুদিন আগে হারিপুরে একই পরিবারের ৫ জন সদস্য সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান।

